ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস। এই হামলাকে কেন্দ্র করে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে তেদরোস বলেন, “এই হামলা একটি কঠোর অনুস্মারক যে, একটি মাত্র আঘাত পারমাণবিক দুর্ঘটনার সূত্রপাত করতে পারে। এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মগুলোকে পর্যন্ত ধ্বংস করে দিতে পারে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সংঘাতের প্রতিটি দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে এই ঝুঁকি ও হুমকির মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের খুব কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং আকাশ থেকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে স্থাপনাটির একজন কর্মী নিহত হয়েছেন।
বুশেহর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ইরানের একমাত্র সচল পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি বুশেহর শহরে অবস্থিত, যেখানে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ বসবাস করেন এবং এটি ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক কেন্দ্র।
এদিকে, রবিবার মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও সাবেক মার্কিন আলোচক সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বুশেহর পারমাণবিক স্থাপনায় আরও তীব্র হামলা চালায়, তাহলে কেবল ইরান নয়, পারস্য উপসাগরের অপর পাড়ে অবস্থিত দেশগুলোও তেজস্ক্রিয় বিকিরণের সম্মুখীন হতে পারে।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশিষ্ট ডিপ্লোম্যাটিক ফেলো এবং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অন্যতম আলোচক অ্যালান আইর বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত ভয়াবহ ঘটনা।”
তিনি আরও বলেন, “যদি বুশেহরে কোনো পারমাণবিক লিকেজ ঘটে, তাহলে পারস্য উপসাগরের অন্য প্রান্তের দেশগুলোই প্রথম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটি যেমন বায়ুমণ্ডলীয় বিকিরণের ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি পানির তেজস্ক্রিয়তার ক্ষেত্রেও, যা তাদের লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”
আইর উল্লেখ করেন, উপসাগরের বর্তমান বাতাস ওে জোয়ারের গতিপ্রকৃতি তেজস্ক্রিয় কণাগুলোকে ইরানের দিক থেকে পশ্চিম দিকে অর্থাৎ আরব দেশগুলোর দিকে ছড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “গবেষণা ও বিশেষজ্ঞরা দেখিয়েছেন যে, পশ্চিমে প্রবাহিত তেজস্ক্রিয় পদার্থের ঘনত্ব চেরনোবিলের মতো জীবন বিপন্ন করার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। কিন্তু পানির মাধ্যমে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ার হুমকিটি অনেক বেশি গুরুতর।”
তার মতে, “একবার যদি পানিতে তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তা পানি বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়াকে অসম্ভব করে তুলবে। আর আমরা জানি, উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের পানির চাহিদার জন্য প্রায় সম্পূর্ণভাবে এই বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টগুলোর ওপর নির্ভরশীল।”