বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। দুই প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।
রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। প্রতিপক্ষ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে।
বগুড়া-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও বগুড়া শহর শাখার আমির। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম। তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, উপনির্বাচনে ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসনসহ মোট দুটি আসনে জয়ী হন। পরে তিনি ঢাকার আসনটি রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। সেই কারণে এই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বিভিন্ন এলাকায় তাদের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। অনেক জায়গায় বিএনপির ব্যানারের ওপর অন্য দলের ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা হলেও বিএনপি সংযত অবস্থানে রয়েছে বলে জানান রেজাউল করিম বাদশা। নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। প্রতিপক্ষের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরির চেষ্টা চলছে। তার দাবি, অতীতেও প্রতিপক্ষ বগুড়ায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়নি।
ভোটারদের উদ্দেশে বিএনপির প্রার্থী বলেন, অসত্য তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেউ কেউ ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে প্রতারণামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে, যা দুঃখজনক। তবে সাধারণ মানুষ এ সব বিষয়ে এখন অনেক বেশি সচেতন বলে তিনি মনে করেন।
রেজাউল করিম বাদশা আরো বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বগুড়ার সার্বিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা অপরিহার্য। পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চলছে এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন এবং ভোটারদের সমর্থন তার পক্ষে রয়েছে।
এর আগে শনিবার (৪ এপ্রিল) বগুড়া শহরের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমানও নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনি পরিবেশ দিন দিন অশান্ত হয়ে উঠছে এবং তার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন এলাকায় তাদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা ও নির্বাচনি সভা পণ্ড করার চেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।