প্রত্যন্ত গ্রামের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে নিজের মেধা আর চেষ্টা দিয়ে মোটরসাইকেল তৈরি করে চমক দেখিয়েছেন বাগেরহাটের এক কিশোর। ১৬ বছর বয়সী মুজাহিদ শেখ নিজের তৈরি মোটরসাইকেল নিয়ে এখন গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত ঘুরে বেড়ান। অল্প বয়সে তার এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ দেখে বিস্মিত স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা মুজাহিদের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে তার কাছ থেকে আরো বড় কিছু প্রত্যাশা করছেন।
মুজাহিদ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার কুমলাই গ্রামের শেখ আজিবর রহমানের ছোট ছেলে। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করে জীবিকার তাগিদে একটি সাইকেল গ্যারেজে কাজ শেখেন তিনি। তিন বছর আগে নিজের বাড়ির সামনে একটি ছোট গ্যারেজও গড়ে তোলেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তার উদ্ভাবনী যাত্রা।
সখের বসে নিজের বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়ে প্রথমে একটি বাইসাইকেলকে মোটরসাইকেলে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন মুজাহিদ। প্রথমবার ব্যর্থ হলেও থেমে থাকেননি। পরবর্তীতে ইউটিউবের সহায়তা নিয়ে দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় তৈরি করেন পূর্ণাঙ্গ মোটরসাইকেল। প্রায় দেড় বছর ধরে নিজের তৈরি এই বাহন ব্যবহার করছেন। এ কাজে তার ব্যয় হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা।
দেখতে অনেকটা বাইসাইকেলের মতো হলেও এতে রয়েছে মোটরসাইকেলের বৈশিষ্ট্য। প্রায় ৭০ কেজি ওজনের এই বাহনে সংযুক্ত করা হয়েছে তিন ধরনের সাউন্ড সিস্টেম। মাত্র ১ লিটার পেট্রোল বা অকটেন তেলে এটি ৮০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে বলে দাবি মুজাহিদের।
স্থানীয় বাসিন্দা শেখ আবু তালেব বলেন, “মোটরসাইকেলটি চালিয়েছি। দেখতে সাইকেলের মতো হলেও কাছ থেকে মোটরসাইকেল মনে হয়। চালাতে খুবই আরামদায়ক এবং সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।”
মুজাহিদের তৈরি মোটরসাইকেল
মুজাহিদের বন্ধু রাকিব হোসেন বলেন, “মুজাহিদ সাইকেল থেকে মোটরসাইকেল তৈরি করেছে এটা আমাদের জন্য গর্বের। শুরু থেকেই অনেক কষ্ট করে আজকের অবস্থানে এসেছে। আমার বিশ্বাস, সে ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু করবে। তার মোটরসাইকেল দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসছে।”
কিশোর উদ্ভাবক শেখ মুজাহিদ বলেন, “আমার বাবার সামর্থ্য কম থাকায় কাজ কাম না করলে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। আমি গ্যারেজ দেওয়ার পর ভাবলাম নতুন কিছু তৈরি করব। ইউনিক কিছু করব। এরপর সাইকেলে একটা মেশিন লাগালাম, সেইটা ৩-৪ মাস চালানোর পর আর চালানোর মতো অবস্থা ছিল না। ওইটা পুরাপুরি কমপ্লিট হয়নি। পরে ওইটা বাদ দিলাম, আর ভাবলাম টাকা পয়সা খরচ করে আর কিছু বানাব না। কিছুদিন পরে আবারো মাথায় এই চিন্তাটা আসলো। যে আরেকটা বার চেষ্টা করে দেখি।”
তিনি বলেন, “পাইপ কিনে এনে নিজেই ফ্রেম তৈরি করলাম। মোটামুটি অনেক দিন কাজ করার পরে গাড়িডা এই পর্যায়ে আছে। গাড়ির সব থেকে বড় বিষয় হলো তেলে মাইলেজ খুব ভালো। এক লিটার তেলে ৮০-৮৫ কিলোমিটার চলে। আমার টাকা পয়সা খুব কম, যদি টাকা পয়সা হয়, তাহলে আমি অনেক কিছু করতে পারব। মোটরসাইকেলটি তৈরিতে আমার ৩৫ হাজার টাকা লাগছে।”
রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না ফেরদৌসি বলেন, “কিশোর বয়সে এ ধরনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাচ্ছি। বাগেরহাটবাসীর জন্য এটা গর্বের বিষয়। যদি তিন আমাদের কাছে কোনো ধরনের সহযোগিতা চান, আমরা দিতে প্রস্তুত আছি।”