কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবুল বাশার ও একই সংগঠনের কর্মী মো. হাসান আহমেদ হৃদয় একে অপরের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে দায়ের করা পৃথক দুটি অভিযোগপত্র প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
অভিযোগপত্রে আবুল বাশার জানান, গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি ও তার দলের নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। তখন ছাত্রদল পরিচয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অতিথিদের পথরোধ করে সেলফি তুলতে চাইলে তিনি এতে বাধা দেন। এর জেরে তারা বার্ডের নতুন গেস্ট হাউজে গিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং অশালীন আচরণ করেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইমুন সরকার হস্তক্ষেপ করেন।
একই দিন দুপুরে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান আহমেদ হৃদয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ‘হত্যার হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ এনে পোস্ট করেন এবং সাংবাদিকদের কাছেও একই অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে আবুল বাশার বলেন, “হৃদয় আহমেদ নিজেকে ছাত্রদল পরিচয় দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলেছেন। এতে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে আমি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছি। তাই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানায় অভিযোগ করেছি।”
অন্যদিকে, পাল্টা অভিযোগে হাসান আহমেদ হৃদয় জানান, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে বার্ডে যান এবং সেখানে কিছু ছবি তোলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আবুল বাশার তাকে না জানিয়ে কেন সেখানে গেছেন, তা নিয়ে জবাবদিহি চান। একপর্যায়ে নিজেকে সভাপতি পদপ্রার্থী পরিচয় দিয়ে তাকে দেখে নেওয়া এবং সুযোগ পেলে হত্যা করার হুমকি দেন।”
হৃদয় বলেন, “বাশার ভাই একজন সিনিয়র হয়ে আমাকে সেদিন হত্যার হুমকি দেন। পরে উল্টো আমার নামেই থানায় অভিযোগ করেন। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি এ ঘটনায় হতাশ এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর কুমিল্লা দক্ষিণ মডেল থানা জানায়, ঘটনাটি তদন্তের জন্য কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই টিটু কুমার নাথকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এসআই টিটু কুমার নাথ বলেন, “থানা থেকে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে, অভিযোগপত্র এখনো হাতে পাইনি। পেলে তদন্ত শুরু করা হবে।”