ক্যাম্পাস

ইবি শিক্ষিক রুনা হত্যা, মাস পেরোলেও অধরা ৩ আসামি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের এক মাস পেরোলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে হত্যা মামলার তিন আসামি। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এছাড়া, আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ নিহতের পরিবারের।

৪ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২২৬ নম্বর কক্ষে অধ্যাপক আসমা সাদিয়াকে ছুরিকাঘাত করে কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে শিক্ষার্থীদের গণপিটুনি থেকে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিনয় করে বলে জানা গেছে। পরে গুরুতর অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেয়া হলে আসমা সাদিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। পরদিন ৫ মার্চ ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামে ইবি থানায় মামলা করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান। মামলার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন আসামিকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পরে সুস্থ হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে, পলাতক আসামিরা হলেন- সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমান সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিত কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং হাবিবুর রহমান। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে ক্যাম্পাস ও কুষ্টিয়া শহরে একাধিকবার বিক্ষোভ মিছিলসহ মহাসড়ক অবরোধ এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করছে না। নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতানের অভিযোগ, আমার স্ত্রী মৃত্যুর পূর্বে যে ষড়যন্ত্রের শিকার ছিলেন, আর মৃত্যুর পরে সেই ষড়যন্ত্রটা এখনো বাস্তবায়ন চলছে। প্রশাসন ফজলুকে দিয়ে একক সিদ্ধান্তের একটা নীল নকশা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবে। তারা বিশ্বজিৎ, শ্যাম সরকারসহ যাদের বিরুদ্ধে আমার লিখিত অভিযোগ আছে যে, তারা বিভাগের অর্থ তছরূপ করেছে। সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কোনো পদক্ষেপ নেননি।

ইবি থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “গ্রেপ্তার না হওয়া তিন আসামি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভিযুক্ত। তাদেরকে ধরতে একাধিক স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি তদন্ত প্রক্রিয়াধীন।”