সারা বাংলা

বাগেরহাটে মাছ চুরির অভিযোগে অমানবিক নির্যাতন

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মাছ চুরির অভিযোগ আব্দুস শকুর মৃধা (৫০)  নামের এক ব্যক্তির ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ জনতার মারধরে ওই ব্যক্তির হাত, পা ও পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে এবং চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টার ফলে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) দিনগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার আঙরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত শুকুর মৃধা উপজেলার ডাবরা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

ঘের মালিক লিয়াকত মুন্সী জানান, রাতে তার মৎস্য ঘেরে মাছ চুরি করার সময় তার ছেলে রোমান মুন্সী (২৬) শুকুর মৃধাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। লিয়াকতের দাবি, এ সময় শুকুরের সহযোগী দিনো মোল্লা রোমানকে আঘাত করে শুকুরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে দিনো মোল্লা পালিয়ে যান।

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি শুকুর মৃধাকে গণপিটুনি দেয়। ব্যাপক নির্যাতনে তার শরীরের বিভিন্ন অংশের হাড় ভেঙে যায় এবং চোখে গুরুতর আঘাত করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নির্যাতনের শিকার শুকুর মৃধার পুত্রবধূ নিলা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যদি তিনি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা যেতো। কিন্তু যেভাবে তাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় ঘের মালিকরা বলছেন, এলাকায় মাছ চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তার উদ্বিগ্ন এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, “আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন পর্যন্ত কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”