আন্তর্জাতিক

কলকাতায় হামলার হুমকিতে মোদি চুপ কেন, পদত্যাগ দাবি মমতার

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ‘কলকাতা পর্যন্ত হামলার হুমকির’ ঘটনায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনায় মোদির কড়া সমালোচনা করে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী।

সোমবার (৬ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার নাকাশিপাড়ার বেথুয়াডহরীতে এক নির্বাচনি জনসভায় মমতা এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ভারত যদি কোনো ‘ভুয়া অভিযান’ চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে তার বদলে কলকাতা পর্যন্ত হামলা চালাবে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের মন্ত্রীর এই মন্তব্য ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুললেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বিষয়ে কোনো শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাননি বলে অভিযোগ মমতার।

বেথুয়াডহরীর জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যখন বলেন যে কলকাতাকে টার্গেট করবেন, তখন প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এসে সেই কথাটা কেন মুখ দিয়ে বললেন না যে- ‘উই উইল টেক স্ট্রং অ্যাকশন (আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব)। কেন উনি চুপ করে বসে ছিলেন?”  

মমতার প্রশ্ন, “উনি (মোদি) চুপ করে বসে ছিলেন। তার কারণ ব্লুপ্রিন্ট রেডি? নির্বাচনের আগে কি আরেকটা পুলওয়ামার (পেহেলগাঁও) মতো ঘটনা ঘটাতে চান?”

তদন্তের দাবি জানিয়ে মমতা বলেন, “পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে কে একথা বলিয়েছে? কারা বলিয়েছে? এর তদন্ত চাই। আপনি কেন তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেননি? কলকাতাকে টার্গেট করার কথা যদি কেউ বলে আমরা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আমরা তা মানবো না।” 

গত রবিবার কোচবিহারের এক সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মমতা সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন। তার পাল্টা জবাবে মমতা বলেন, “যদি কোনো অনুপ্রবেশকারী কোথাও ঢুকে থাকে, তবে সেই বর্ডারের জমিদারি তো আপনার। বর্ডার পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব কেন্দ্রের। আপনি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে না পারলে আগে নিজে পদত্যাগ করুন।”

ভোটার তালিকা থেকে কয়েক লাখ মানুষের নাম বাদ যাওয়া নিয়েও মোদিকে নিশানা করেন। মমতা বলেন, “২০২৪ সালে লোকসভা ভোটে তো আপনিও প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তাহলে প্রথমে তো আপনার পদত্যাগ করা উচিত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।”