সারা বাংলা

অপরাধ শূন্যে নয়, নিয়ন্ত্রণই লক্ষ্য: এসএমপি কমিশনার

সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেছেন, “অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়, তবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এনে সহনীয় পর্যায়ে রাখা পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।”

সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরের নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনাকে ঘিরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, “আলোচিত তিনটি ঘটনার মধ্যে দুটি ছিনতাই নয়, বরং ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘটিত মারামারি। যাচাই ছাড়া এসব ঘটনাকে ছিনতাই হিসেবে উপস্থাপন করায় জনমনে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।”

তিনি বলেন, “সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই এবং পুলিশের বক্তব্য নেওয়া জরুরি। অন্যথায় প্রকৃত ঘটনার বাইরে গিয়ে উপস্থাপন হলে জনমনে উদ্বেগ বাড়ে।”

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন তুলে ধরে আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, “ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২৬৩ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীর তালিকা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার করা হবে।”

এসএমপি কমিশনার জানান, অপরাধকে একেবারে শূন্যে নামানো একটি ইউটোপিয়ান ধারণা। তবে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক ক্রাউডসোর্সড ডাটাবেস Numbeo-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সিলেটের ক্রাইম ইনডেক্স ৩২.৭০ এবং সেফটি ইনডেক্স ৬৭.২০, যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন অপরাধ এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নির্দেশ করে। তার দাবি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও সিলেট একটি নিরাপদ শহর হিসেবে বিবেচিত।

নগরে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার বিষয়ে আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশের অনেক জায়গায় যা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি, সিলেটে আমরা হকার উচ্ছেদ ও অবৈধ যান নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছি। জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয়ে এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

রাহাত/মাসুদ