আফ্রিকান ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রশাসকরা। টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজ ও ছয় দলের আফ্রিকা কাপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অঞ্চলজুড়ে ক্রিকেটকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক সম্মেলনে এই পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রস্তাবিত ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। আগস্ট মাসে এই সিরিজ শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- এই তিন দেশই ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছয় দলের একটি আফ্রিকা কাপ আয়োজনের কথাও ভাবা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের মতো পূর্ণ সদস্য দেশের পাশাপাশি খেলবে নামিবিয়া, যারা বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে ১৫তম স্থানে রয়েছে। বাকি ৩টি দল আসবে আঞ্চলিক বাছাইপর্ব থেকে, যা আরও বেশি দেশকে প্রতিযোগিতায় যুক্ত করবে।
শুরুর দিকে ১০ দলের টুর্নামেন্টের কথা ভাবা হলেও শেষ পর্যন্ত ৬ দলের ফরম্যাটকেই উপযুক্ত মনে করা হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ আফ্রিকা কাপ এই বছর অনুষ্ঠিত হবে না- ত্রিদেশীয় সিরিজটিই হবে এর প্রাথমিক ধাপ।
বেশিরভাগ ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে নামিবিয়ায়, যেখানে দ্রুত উন্নত হচ্ছে ক্রিকেট অবকাঠামো। বিশেষ করে বিশ্বকাপ আয়োজনের আগে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা নামিবিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই টুর্নামেন্ট সফল করতে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। তাদের উপস্থিতি টেলিভিশন সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি আফ্রিকা কাপ শুধুমাত্র সহযোগী দেশগুলো নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল, যা স্পনসর সংকটে পড়েছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বড় দলগুলোকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এশিয়া কাপের সফলতাকে অনুসরণ করতে চায় আফ্রিকান ক্রিকেট প্রশাসন। যেমন ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলে উন্নতি করেছে, তেমনি উগান্ডা, কেনিয়া ও তানজানিয়ার মতো দলগুলোকেও একই সুযোগ দিতে চায় তারা।
এর আগে আফ্রো-এশিয়া কাপ পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা থাকলেও ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ফলে এখন নিজেদের মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট গড়ে তোলার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে আফ্রিকা।