বিনোদন

কলেজ গেটে দাঁড়িয়ে থাকতেন শাকিব, কলেজের সামনে গিয়ে স্মৃতিকাতর অপু

ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস এখন নিজ জন্মস্থান বগুড়ায় অবস্থান করছেন। এ শহরেই তার বেড়ে ওঠা। শহরটির অলিগলিতে মিশে আছে তার অগণিত স্মৃতি। বগুড়ার মাটিতে পা দিতেই সেইসব স্মৃতিরা মৌমাছির মতো যেন জেঁকে ধরে তাকে। নিজ শহরে গাড়ি ড্রাইভ করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অপু বিশ্বাস। গিয়েছেন নিজের স্মৃতিমাখা কলেজের সামনেও। 

অপুর এ যাত্রায় সঙ্গী হয়েছেন রাইজিংবিডির ফিচার সম্পাদক রাহাত সাইফুল। চলতে চলতে নানা বিষয়ে কথা বলেছেন অপু বিশ্বাস। একসময় এই কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। প্রাক্তন স্বামীর সঙ্গে তৈরি হওয়া সেইসব স্মৃতিও রোমন্থন করেছেন এই অভিনেত্রী।

মন্থর গতিতে গাড়ি চালাচ্ছেন অপু বিশ্বাস। এরই ফাঁকে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, কলেজ নিয়ে ভালো বা মজার কোনো স্মৃতি আছে কি না? জবাবে অপু বিশ্বাস বলেন, “মজার অনেক স্মৃতি আছে। আমাদের কলেজের সাথেই আজিজুল হক কলেজ; আমাদেরটা মহিলা কলেজ। আমাদের জন্য বাস ছিল। আমরা যখন অবসর সময় পেতাম, ফ্রি টাইমে বাসে উঠে যেতাম এবং বান্ধবীরা মিলে অনেক মজা করতাম। আমার মনে হয়, আমার কথার সঙ্গে অনেকেই একমত হবেন যে, আমরা অনেক স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা যখন কলেজে পৌঁছে যেতাম, তখন মনে হতো—আমরা তো কলেজে চলে আসছি, এখন ধরাবাধা কোনো নিয়ম নেই। আমরা বের হতে পারব বা আমরা যদি কামাই দিই তাতেও কোনো সমস্যা হবে না।” 

অপু বিশ্বাসের এসব কথা শেষ হওয়ার পরই জানতে চাওয়া হয়, কলেজ ফাঁকি দিয়ে বন্ধু বা বান্ধবীদের সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়া কিংবা ফুচকা খাওয়ার কোনো মুহূর্তের কথা কী মনে আছে? উত্তরে অপু বিশ্বাস বলেন, “বগুড়াতে ওইভাবে কখনো ফুচকা খেতে পারিনি। তবে দু-একবার স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়েছি। একবার আমাদের স্কুল থেকে একটি র‌্যালি বের হয়েছিল, সেটাতে আমার যাওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু আমি গিয়েছিলাম। আর কলেজে আরেকবার ফাঁকি দিয়ে মহাস্থনগড়ে গিয়েছিলাম।”

স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কারণও অপু বিশ্বাস ব্যাখ্যা করেছেন। পাশাপাশি পরিবারের কাছে ধরা পড়ার কথাও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমাদের মনে হয়েছিল, আমরা কলেজে এসেছি, আমাদের ফ্রিডম আছে—এই আবেগ থেকেই আমরা মহাস্থনগড় গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে আমরা অনেক ঘোরাফেরা করি। কিন্তু আমার পরিবারের লোকজন আমাকে নিতে কলেজে আসতেন; ফলে পরিবারের কাছে ধরা পড়ে যাই।”

এরপরই অপু তার জীবনের বিশেষ সময়ের স্মৃতির ঝাঁপি খোলার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমার কলেজ গেটের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত স্মৃতি আছে; যেখানে অনেকে এসে দাঁড়িয়ে থাকতেন, যখন নায়িকা হয়েছি, তখন একজন এসে দাঁড়িয়ে থাকতেন।” 

এক প্রকার অপুর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে অন্ধকারে ঢিল ছোড়া হয়। প্রশ্ন রাখা হয়, যদি ভুল না করি, সেই ব্যক্তি কি কিং খান? অপু বিশ্বাস এ প্রশ্ন শুনে মুখে কোনো উত্তর দেননি। তবে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন এই অভিনেত্রী। তার মানে আপনার সন্তানের বাবা এই কলেজের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন? অপু বিশ্বাসের সোজাসাপ্টা জবাব, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, এই কলেজের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকতেন। আমাদের কলেজটির বিপরীত পাশে একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ছিল। ওটার কর্নারে সে দুই দিন দাঁড়িয়েছিল। ওই জায়গাটি এখন দেখলে কেমন জানি লাগে!”   

অপু বিশ্বাস এসব কথা যখন বলছেন, তখন তার মুখে হাসি লেগে আছে, পরক্ষণেই তার মুখাবয়বে আনন্দ ও বেদনার রেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কলেজের সামনে এলে স্মৃতিগুলো কী মনে পড়ে? তৎক্ষণাৎ এ প্রশ্নও ছুড়ে দেওয়া হয়। জবাবে অপু বিশ্বাস বলেন, “অবশ্যই। ক্যারিয়ারের প্রথম দিকের অনুভূতিগুলো ফিরে আসে।”

প্রথমবারের মতো গাড়ি চালাতে চালাতে এমন রিয়েল ইন্টারভিউ দিচ্ছেন বলে জানান অপু। কিন্তু ড্রাইভ করার কারণে ক্যামেরার দিকে খুব একটা তাকাতে পারছেন না, তা-ও বলেন অপু। কারণ বগুড়া শহর ব্যস্ত একটি জায়গা, অন্যমনস্ক হলে দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে! উচ্ছ্বাস নিয়ে অপু বলেন—“অন্যরকম একটি সাক্ষাৎকার হলো। থ্যাঙ্ক ইউ রাহাত সাইফুল, থ্যাঙ্ক ইউ রাইজিংবিডি।” 

অনুলিখন: আমিনুল ইসলাম শান্ত