খেলাধুলা

আমিনুলের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ, যে ১৮টি সামনে এসেছে

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ২০১৮ সালের আইন মোতাবেক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ কমিটি বিলুপ্ত করে অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে। বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এই সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার দিয়েছে। 

যে আইনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কমিটি বিলুপ্ত করে: নীতিমালা অনুযায়ী, ‘‘আপতত বলবৎ অন্য কোনো আইন, চুক্তি বা আইনি দলিলে যা কিছুই থাকুক না কেন, পরিষদ জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা বা তপশিলে উল্লেখিত ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটি, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করিতেছে না বা সংস্খার স্বার্থের পরিপস্থি কার্যক্রম পরিচালনা করিতেছে মর্মে পরিষদের নিকট প্রতীয়মান হইলে, উক্ত নির্বাহী কমিটি ভাঙ্গিয়া দিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে, একটি অ্যাডহক কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে।’’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটি একাধিক বোর্ড পরিচালক, ক্রীড়া সংগঠক এবং নির্বাচনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকেছিল কমিটি। তাতে কেউ কেউ সাড়া দিয়েছে। কেউ দেয়নি। তাদের রিপোর্ট পর্যালোচনা করেই জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইসিসিকে জানিয়ে বোর্ড ভেঙে দিয়েছে।

রিপোর্ট পর্যালোচনার পর যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে: ১) কাউন্সিলর নাম জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি ২) অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর নাম পুনঃপ্রেরণের নির্দেশ ৩) নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনয়নের জন্য চাপ ৪) অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ৫) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ নির্দিষ্ট সময়ের পর  ৬) অ্যাডহক কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিসিবির অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ ৭) সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপ ৮) ক্রীড়া উপদেষ্টার সহায়তায় ই-ভোটে নির্বাচন কারচুপি ৯) নির্দিষ্ট স্থান থেকে গোপনীয়তা ব্যতীত ই-ভোট প্রদান ১০) অ্যাডহক কমিটিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা ১১) নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ১২) বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন ১৩) ই-ভোটিং সিস্টেমের অপব্যবহার ১৪) সময়সীমার পরে মনোনয়ন গ্রহণ ১৫) পছন্দের প্রার্থীদের অনৈতিক সুবিধা প্রদান ১৬) নির্দিষ্ট স্থানে ই-ভোটারদের ভোট প্রদানে প্রভাবিত করা। ১৭) সামগ্রিক ভোটদান পরিবেশ। ১৮) বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন।

আমিনুলের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ: বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ ছিল তদন্ত কমিটির। কমিটি দেখতে পায় যে, বিসিবি বোর্ড অব ডিরেক্টরসের ২১তম বৈঠকে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়নের বিষয়টি নথিভুক্ত হয়েছিল এবং বোর্ডের পরিচালকরা জনাব আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে অনুমতি দিয়েছিলেন যে তিনি নিজেই প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে ১০ জন কাউন্সিলর মনোনয়ন করতে পারেন।

তবে অন্যান্য সাক্ষাৎকারকৃত পরিচালকরা তাদের বক্তব্যে এই দাবিটি অস্বীকার করেছেন। এ প্রসঙ্গে কমিটি বিসিবি সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরীকে বোর্ড বৈঠকের অডিও ভিডিও রেকর্ড সরবরাহ করতে অনুরোধ করেছিল যা এখনো প্রদান করা হয়নি।

এর বিপরীতে বিসিবি সিইও ০৪/০৪/২০২৬ তারিখে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বোর্ড সভার অডিও ভিডিও রেকর্ড সরবরাহের জন্য ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন যা কমিটি অযৌক্তিক এবং অসহযোগী মনে করেছে। তাই কমিটি বিশ্বাস করে যে, বিসিবি কমিটিকে অডিও ভিডিও রেকর্ড সরবরাহ করতে ইচ্ছুক নয়। সুতরাং বোর্ড অনুমোদন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উত্থাপিত আপত্তি যথাযথ ভিত্তিসম্পন্ন।

কমিটি অনুমান করেছে যে আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যে ১০ জন কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য যথাযথভাবে অনুমোদিত ছিলেন না। এছাড়াও বিসিবি সংবিধানের আর্টিকেল ৯.৩.৩ অনুযায়ী সভাপতি এককভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষমতা রাখেন না। সুতরাং বিসিবি সভাপতি হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন করে তার ক্ষমতার বাইরে কাজ করেছেন। এটি সুস্পষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন।