এই সময়ে ওজন কমানোর জন্য অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ডায়েট অনুসরণ করেন। এর মধ্যে একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো ওয়াটার ফাস্টিং। নাম শুনেই অনুমান করা যায়, এটি মূলত পানি বা তরল খাবার নির্ভর একটি ডায়েট পদ্ধতি। তবে এটি যতটা সহজ মনে হয়, ততটা নয়—কারণ ভুলভাবে করলে শরীরের ক্ষতিও হতে পারে। এজন্য সঠিক নিয়ম ও সচেতনতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়াটার ফাস্টিং মূলত কী
ওয়াটার ফাস্টিং বলতে বোঝায় নির্দিষ্ট সময় ধরে শুধু পানি বা তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করা। যারা স্বল্প সময়ে ওজন কমাতে চান, তারা সাধারণত এই পদ্ধতি অনুসরণ করেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, দিনে নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে পানি, স্যুপ, জুস ইত্যাদি গ্রহণের মাধ্যমে এই ডায়েট করা হয়। টানা প্রায় ২০ দিন সঠিকভাবে অনুসরণ করলে ৫–৬ কেজি পর্যন্ত ওজন কমতে পারে। তবে ২০ দিনের বেশি সময় ধরে এটি করা ঠিক নয়।
শরীর উপযোগী কি না আগে বুঝুন ওয়াটার ফাস্টিং শুরু করার আগে অবশ্যই জানতে হবে আপনার শরীর এই ডায়েটের জন্য উপযুক্ত কি না। যেসব সমস্যা থাকলে ওয়াটার ফাস্টিং করা যাবে না:
হিমোগ্লোবিন কম ডায়াবেটিস রোগী যাদের রক্তচাপ কমএছাড়া বয়স, ওজন, কাজের ধরন এবং দৈনন্দিন শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রার ওপর নির্ভর করে ফাস্টিং প্ল্যান নির্ধারণ করা উচিত।
শারীরিকভাবে সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য একটি সাধারণ তালিকা হতে পারে— সকাল (৮টার মধ্যে): কুসুম গরম পানিতে লেবু ও মধু
বেলা ১১টা: আঁশসহ যেকোনো ফলের রস
দুপুর ২টা: শসা ও টমেটোর জুস
বিকেল: এক কাপ লাল চালের ভাত + মাছ + সবজি (অথবা ভেজিটেবল স্যুপ)
সন্ধ্যা: লেবু দিয়ে চিয়া বীজ
রাত: ঘুমানোর আগে এক কাপ টক দই
কখন করবেন ওয়াটার ফাস্টিং? পুষ্টিবিদদের মতে, দিনের বেলায় ওয়াটার ফাস্টিং বেশি কার্যকর। কারণ এই সময় শরীর সক্রিয় থাকে এবং বিপাকক্রিয়া (metabolism) দ্রুত কাজ করে। রাতে ঘুমের সময় শরীর বিশ্রামে থাকে, তাই তখন ফাস্টিংয়ের তেমন কার্যকারিতা দেখা যায় না।
সুতরাং শরীরের অবস্থা বুঝে এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এই ডায়েট শুরু করা উচিত। সঠিক নিয়ম মেনে করলে উপকার পাওয়া সম্ভব, কিন্তু অবহেলা করলে ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।