আন্তর্জাতিক

সরকার আমরাই গড়ব: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর কেন্দ্রের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে বুধবার নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চতুর্থবার ভবানীপুর আসনে মনোনয়ম পেশ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, এদিন সকাল সাড়ে দশটায় কালীঘাটের বাড়ি থেকে বের হন মমতা। মনোনয়ন পর্বে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিল বিশাল মিছিল। মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে রাস্তার ধারে ভিড় জমান বহু মানুষ। রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা নারী কর্মীরা শঙ্খ বাজিয়ে ও উলুধ্বনি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিরাট মিছিল নিয়ে আলিপুরের সার্ভে ভবনে পৌঁছন মমতা। সেখানে মনোনয়ন পেশ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তার সঙ্গেই ছিলেন কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, কাউন্সিলর ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, ভ্রাতৃবধূ কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের নেতা সন্দীপ বক্সী। এরপর সকাল ১১টা ২০ নাগাদ তিনি মনোনয়ন জমা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসাবে স্বাক্ষর করেছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্ত্রী ইসমত (রুবি) হাকিম, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ও অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের স্বামী নিসপাল সিং রানে, ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল ব্লক সভাপতি বাবলু সিং এবং ভবানীপুর এডুকেশন সোসাইটির মীরজ শাহ।

মনোনয়ন জমা দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভবানীপুরেই আমার ধর্ম, কর্ম, এখানেই ছিলাম, আছি। ভবানীপুর আমার সবকিছু। আমি ৩৬৫ দিনই এখানে থাকি। আমি সেই ছোটবেলা থেকে এখানেই আছি, এখানেই থাকব। ভবানীপুরের মানুষকে আমার কৃতজ্ঞতা, নমস্কার ও সেলাম।”

কেবল নিজের কেন্দ্র নয়, গোটা রাজ্যের মানুষের কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনেই তৃণমূল প্রার্থীদের ভোট দিন। বাংলায় সরকার আমরাই গড়ছি।”

উৎসবের আবহের মধ্যেও এদিন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে ফের কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন তিনি। মমতা বলেন, দুঃখের সঙ্গে বলছি, এত নাম বাদ গিয়েছে, মানুষ ভোটই দিতে পারবে না। পরে নাম তুলে কী লাভ?”

মমতার দাবি, “৩২ লাখ নাম উঠেছে ১.২০ কোটির মধ্যে, সেটাও আমি কেস করেছিলাম বলে। বাকি ৫৮ লাখ খোলাই হয়নি, এর মধ্যে কিছু বাদ হতে পারে, যারা ডুপ্লিকেট। যারা অ্যাডজুডিকেশনে আছে তাদের নাম তোলা উচিত একথা সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল। তাদের ভোটাধিকার দেওয়া উচিত নাহলে এবার তারা ভোট দিতে পারবে না। আমি এটা নিয়ে আবার যাব বিচার চাইতে।’”

মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর পায়ে হেঁটেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার আগেই ভবানীপুর কেন্দ্রে নমিনেশন জমা করেছেন মমতার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রে নির্বাচন। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।