আন্তর্জাতিক

প্রয়োজনের সময় ন্যাটো পাশে ছিল না: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়েছে। খবর তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “যখন আমাদের প্রয়োজন ছিল তখন ন্যাটো সেখানে ছিল না এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলেও তারা থাকবে না।”

ন্যাটোর সমালোচনার পাশাপাশি ট্রাম্প ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে তার পূর্বের আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন। গ্রিনল্যান্ডকে তিনি একটি ‘বিশাল, অব্যবস্থাপনায় চলা বরফখণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এদিকে, হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ট্রাম্প ন্যাটোর প্রধান মার্ক রুটের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঠিক একদিন পরেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে গত ছয় সপ্তাহে ন্যাটো আমেরিকার জনগণের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, অথচ এই আমেরিকানরাই তাদের প্রতিরক্ষা খাতে অর্থায়ন করে আসছে।”

তবে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে খুব অকপট ও খোলামোলা আলোচনা হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে যা ঘটেছে সে সম্পর্কে তিনি তার চিন্তাভাবনা আমাকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।”

রুটে স্বীকার করেন যে, অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশ তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেও, কিছু দেশ তা করেনি।

তিনি বলেন, “তাদের মধ্যে কেউ কেউ (ব্যর্থ হয়েছে), তবে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ... তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করেছে।

তিনি আরও যোগ করেন, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ক্ষমতা প্রদর্শনের একটি প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে কাজ করে, যদিও যারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি তাদের ওপর ট্রাম্পের অসন্তুষ্টির বিষয়টি তিনি ‘পুরোপুরি বুঝতে পারছেন’।

তবে ন্যাটো ব্যাপকভাবে ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে- এমন ধারণা রুটে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, “ন্যাটো সবসময় এই অবস্থানেই ছিল যে, পরমাণু এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে সেই সব ‘অসহযোগী’ সদস্য দেশগুলোকে শাস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যারা সহযোগিতা করছে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই দেশগুলো থেকে মার্কিন সেনা সরিয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি সমর্থনকারী দেশগুলোতে মোতায়েন করা হতে পারে।

এত উত্তেজনা সত্ত্বেও, রুটে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর জন্য জিডিপির ৫ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নেতৃত্বকে একটি ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ এবং জোটের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।