জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হলেও এখনো নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্যোগ শুরু হয়নি।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্মকর্তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় সময় ও নীতিগত সিদ্ধান্তের অভাবে পুরো প্রক্রিয়ায় ধীরগতি দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো নির্বাচন আয়োজনের কোনো চিঠি না আসায় ইসি আপাতত তাদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানায়, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বিলম্ব ও নীতিগত অস্পষ্টতার কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত অগ্রগতি হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি সামনে আসে। সে সময় তিন সিটির নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইসিকে চিঠি দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় বড় ধরনের রদবদল ঘটে। মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার সকল সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্য অনুযায়ী, মোট ৪ হাজার ৬৫৩টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের উপযোগী হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৭৫৫টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ১২টি সিটি করপোরেশন এবং ৬১টি জেলা পরিষদ।

এদিকে, সম্প্রতি সরকার ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে বড় পরিসরের নির্বাচন আয়োজন আরো কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। এতে করে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সময় নষ্ট করা হচ্ছে না। এখন মূল বিষয় হলো কোন স্তরের নির্বাচন দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হবে, সেটি নির্ধারণ করা।”

তিনি আরো বলেন, “ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গে কোনো আইনবহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না এবং নীতিগত অবস্থানের মধ্যেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” পাশাপাশি, অল্প সময়ের মধ্যেও নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা কমিশনের রয়েছে বলেও জানান তিনি।