শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশি দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় সংসদীয় এই আসনের ভোটগ্রহণ। দুপুর ১২ টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ২৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি আরো বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-৩ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মার্কসবাদীর প্রার্থী মিজানুর রহমান।
এদিকে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের বডিওর্ন ক্যামেরাও ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, “নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ছয়জন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই।”
শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে। তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুরো এলাকা ঢেকে রাখা হয়েছে।”
দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসন। এখানে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১৮ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষক, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করছেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিম, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১ হাজার ১৫০ সদস্য মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন।