বগুড়া-৬ (সদর উপজেলা) আসনের উপ-নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল। তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, দলীয় লোক নিয়োগ এবং ভোট শুরুর আগেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া শহরের মালতীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন আবিদুর রহমান সোহেল।
জামায়াত প্রার্থীর অভিযোগ, শুরু থেকেই রিটার্নিং কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে তাদের সন্দেহ ছিল। নির্বাচন পরিচালনায় প্রয়োজনীয় দৃঢ়তা ও নিরপেক্ষতার ঘাটতি আছে তার। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “মালতীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই জামায়াতের এজেন্টদের কাছ থেকে রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। এটি পাতানো নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত বহন করে। এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে মালতীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নূর ইসলাম বলেন, “ফলাফল দ্রুত প্রস্তুত করার সুবিধার্থে পোলিং এজেন্টদের অনুরোধে অগ্রিম স্বাক্ষরের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে, সেই শিটে আমার কোনো স্বাক্ষর বা সিল ছিল না। বিষয়টি নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাৎক্ষণিকভাবে কাগজটি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে নতুন রেজাল্ট শিটে নিয়ম অনুযায়ী কাজ চলছে।”
এদিকে, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন বলেন, “দুজন পোলিং এজেন্ট স্বাক্ষর করলেও একজন রাজি হননি। প্রিজাইডিং অফিসার কোনো শিটে স্বাক্ষর করেননি। অভিযোগ পাওয়ার পর আগের শিটগুলো সবার সামনে ছিঁড়ে ফেলে নতুন শিট দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “ভোট গ্রহণ শেষে নিয়ম অনুযায়ী পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষর করে রেজাল্ট শিট হস্তান্তর করবেন। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি। ছোটখাটো সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হচ্ছে।”
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রার্থী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।