অর্থনীতি

যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কায় পুঁজিবাজারে ফের পতন

ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইসরায়েলের যুদ্ধ বিরতির ঘোষণায় বুধবার (৮ এপ্রিল) শেয়ারবাজারে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে একদিন না যেতেই যুদ্ধ বিরতি ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের বড় পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।

এদিন, ডিএসইতে আগের কার্যদিবসের চেয়ে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমলেও সিএসইতে বেড়ছে। তবে উভয় পুঁজিবাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক মাসের বেশি সময় পর গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের এই খবরে গত বুধবার ব্যাপক উত্থান দিয়ে লেনদেন শেষ করে দেশের উভয় পুঁজিবাজার। তবে একদিনের ব্যবধানে শেয়ারবাজার আবার পতনমুখী। 

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেক দিন ধরে পুঁজিবাজারে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান দেখা গেলেও লেনদেনের শেষদিকে তা পতনে রূপ নেয়। তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই সূচকের পতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত সূচকের পতনমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল।

ডিএসই ও সিএসই সূত্রে জানা গেছে, দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৬০.২৫ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৫৭.৭০ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১২.৭৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৩.১৭ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ২৩.৮৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২.২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৭০টি কোম্পানির, কমেছে ৩০৬টির এবং অপরিবর্তিত আছে ১৪টির।

এদিন, ডিএসইতে মোট ৭৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সিএসসিএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ২০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯ হাজার ৩৯.১৫ পয়েন্টে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪৪.২০ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৭৩.৮৫ পয়েন্টে, শরিয়াহ সূচক ০.৫৩ পয়েন্ট বেড়ে ৮৯৮.১৬ পয়েন্টে এবং সিএসই ৩০ সূচক ৪৫.১৫ পয়েন্ট কমে ১২ হাজার ২৬৭.৩৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সিএসইতে মোট ১৯৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে ৭৩টি কোম্পানির, কমেছে ১০৭টির এবং অপরিবর্তিত আছে ১৫টির।

দিন শেষে সিএসইতে ১১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।