মাত্র ১৯ বছর বয়সে ভালোবেসে রাহুল ব্যানার্জির জীবনসঙ্গী হয়েছিলেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। তারপর অভিনয় ছেড়ে সংসারে মন দেন; পুত্র সহজের মা হন। দাম্পত্য জীবনে নানারকম চড়াই-উতরাই পার করেছেন তারা।
কাগজে-কলমে বিচ্ছেদ না হলেও দীর্ঘ সময় আলাদা থেকেছেন রাহুল-প্রিয়াঙ্কা। তবে সবকিছু ভুলে পুত্রের জন্য জোড়া লাগে এ জুটির সংসার। কিন্তু নিয়তির কাছে হেরে গেলেন, ৩৫ বছর বয়সে বিধবা হলেন প্রিয়াঙ্কা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারালেন সহজ; যা তার জন্য মোটেও সহজ নয়।
এ পরিস্থিতিতে রাহুলের করুণ মৃত্যুর বিচারের দাবিতে এক হয়েছেন কলকাতার অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা। দায়ের করেছেন একাধিক মামলা। কঠিন সময়ে সবাইকে পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট দিয়েছেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে প্রিয়াঙ্কা ফেসবুকে স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন। লেখোর শুরুতে এই অভিনেত্রী বলেন, “ধন্যবাদ জানাই সকলকে, এই কঠিন সময়ে আমাদের পাশে থাকার জন্য। গত ৭ তারিখে গোটা চলচ্চিত্র পরিবার যেন এক সুরে বাঁধল নিজেদের—একই ভাবনা, একই চিন্তা আর অফুরন্ত ভালোবাসায়। এখানে কোনো বিভাজন নেই, কোনো রাজনৈতিক রং নেই; নেই কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা আমিত্বের সংঘাত। এখানে শুধু একটাই সত্য—আমরা একটি পরিবার। পরিবারেরই একজন সদস্যের প্রতি গভীর স্নেহ আর মমতা থেকেই আজকের এই ঐক্যবদ্ধ লড়াই।”
প্রিয়াঙ্কা মনে করেন একটি মৃত্যু একটি পরিবারকে এক সুতায় গেঁথেছেন। তার ভাষায়—“রাহুলকে কেউ অভিনেতা হিসেবে ভালোবেসেছেন, কেউ চেনেন অরুণোদয় হিসেবে, আবার কেউবা ভালোবেসেছেন লেখক রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে। একটি মৃত্যু আজ আমাদের গোটা পরিবারকে এক সুতোয় গেঁথে দিল। তবে এই অকাল প্রয়াণ যেন নিছক একটি শোকের স্মৃতি হয়ে না থাকে; এটি যেন আরো বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা করে। তবেই এই মানুষটি আমাদের মাঝে অমর হয়ে থাকবেন, এটাই হবে তার প্রকৃত উত্তরসূরি বা লেগাসি।”
আশা প্রকাশ করে প্রিয়াঙ্কা সরকার বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হোক একটাই—ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে। টেকনিশিয়ান হোন বা শিল্পী—মৃত্যুর পর নিজের সম্মান আর মর্যাদার লড়াই যেন কাউকে লড়তে না হয়।”
বলে রাখা ভালো, ধারাবাহিক নাটকের আউটডোর শুটিংয়ে দিন-দুয়েকের জন্য তালসারি গিয়েছিলেন রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে শুটিং চলাকালীন দুর্ঘটনা ঘটে। সমুদ্রের পাড়ে শুটিং করতে গিয়ে হঠাৎ জলে পড়ে যান—রাহুল ও শ্বেতা মিশ্রা। নায়িকাকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, খুঁজে পাওয়া যায়নি রাহুলকে, জলে তলিয়ে যান অভিনেতা। বেশ কিছুটা সময় পরে অভিনেতাকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত ৩০ মার্চ বিকাল সাড়ে ৫টার কিছু পরে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।