জাতীয়

ছুটির দিনেও তেলের জন্য দীর্ঘ সারি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারের চাপ নিতে হচ্ছে বাংলাদেশেকেও। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর তেলের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার তেলের সংকট নেই বলা হলেও পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকে।

আজ রাজধানীর রমনা, বিজয় সরণি, মতিঝিল ও সংসদ ভবন সংলগ্ন বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে- ভোর থেকেই মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন। কোথাও কয়েকশ মিটার, আবার কোথাও এক কিলোমিটারেরও বেশি দীর্ঘ হয়েছে গাড়ির সারি। চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন তেলের জন্য।

রমনার একটি পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “সকাল সাড়ে ৮টা থেকে লাইনে আছি, কিন্তু এখনো তেল পাইনি। যদি সংকট না থাকে, তাহলে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে কেন?”

মতিঝিল এলাকায় প্রাইভেটকার চালক হাসিব রহমান বলেন, “ছুটির দিনটাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা, অথচ তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। বাস্তবে সংকট না থাকলে এমন পরিস্থিতি হতো না।”

একই পাম্পে অপেক্ষমাণ আরেক চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এক পাম্পে তেল না পেয়ে আরেক পাম্পে আসছি। এখানে এসে দেখি আরো বড় লাইন। কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পেলে খুব কষ্ট লাগে।”

সরেজমিনে দেখা যায়, তেল সরবরাহ সীমিত রাখার কারণে প্রতিটি যানবাহনে নির্দিষ্ট পরিমাণে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ এবং প্রাইভেটকারে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে সীমিত মজুত ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব হলেও, চালকদের ভোগান্তি বাড়ছে বহুগুণে।

পাম্পগুলোতে নির্ধারিত সময়সূচি মেনেই তেল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। তেল মজুত থাকা সাপেক্ষে শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং শুক্রবার সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাম্প খোলা রাখা হচ্ছে।

পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, “সরকার বলছে জ্বালানি তেলের সংকট নেই। ডিপো থেকে পাম্পগুলোতে চাহিদা মতো তেল পাচ্ছে না। যতটুকু সরবরাহ করা হচ্ছে, আমরা সবটুকু ভোক্তা পর্যায়ে দিচ্ছি।”

এদিকে, দেশে আগামী দুই মাসের পেট্রোল ও অকটেন মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে  প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট নেই। পেট্রোল ও অকটেনে আগামী দুই মাসে কোনো সংকট হবে না। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, অকটেন ৯ হাজার ৫৬৯ মেট্রিক টন ও পেট্রোল ১৬ হাজার ৮১২ মেট্রিক টন মজুত আছে।” 

এ পর্যন্ত সারা দেশে ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযানে অবৈধভাবে মজুত করা ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। 

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “মজুত ও অতিরিক্ত কেনার প্রবণতা পরিবর্তন না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।”

জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, একটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় রয়েছে। আরেকটি জাহাজ আগামী ১৮ এপ্রিল রওনা হবে এবং তৃতীয় একটি জাহাজের বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এ ছাড়া সারাদেশে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি মজুত বাড়ানো প্রয়োজন উল্লেখ করে মনির চৌধুরী বলেন, “কমপক্ষে তিন মাসের জ্বালানি মজুত রাখার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।”