স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করতে গাজীপুর সদর উপজেলায় পিরুজালী এলাকায় শাশুড়ি আসমা আক্তারকে (৫৫) পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজান পুত্রবধূ। এই ঘটনায় পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শরিফ উদ্দীন।
আরো পড়ুন: গাজীপুরে নৈশ্যপ্রহরীর বাড়িতে ডাকাতি, বাধা দেওয়ায় নারীকে হত্যা
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নিহতের ছেলে নাজমুল সাকিবের স্ত্রী আরিফা আক্তার উর্মি (২২), তার সহযোগী পিরুজালী গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. উজ্জ্বল (৪৬) ও একই গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে শাহনাজ বেগম (৪৫)।
এসপি মো. শরিফ উদ্দীন জানান, গত ৭ এপ্রিল মধ্যরাতে সদর উপজেলার পিরুজালী মধ্যপাড়া এলাকায় নৈশ্যপ্রহরী আনিসুর রহমান ও তার ছেলে নৈশপ্রহরী নাজমুল সাকিব নিজ নিজ কর্মস্থলে চলে যান। বাড়িতে ছিলেন আনিসুরের স্ত্রী আসমা আক্তার, পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মি এবং চার বছর বয়সী এক নাতি। পরদিন ৮ এপ্রিল সকালে নাজমুল সাকিব বাড়িতে ফিরে দেখেন তার স্ত্রী উর্মির হাত-পা ও মুখ ওড়না দিয়ে বাঁধা এবং তিনি খাটের পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন।
অন্য ঘরে তিনি তার মা আসমা আক্তারের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো এবং সিন্দুক থেকে নগদ ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনাটি পুলিশে সন্দেহ হলে প্রথমে পিরুজালী গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. উজ্জ্বল, একই গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে শাহনাজ বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নৈশ্যপ্রহরী আনিসুর রহমানের ঘরে থাকা টাকা এবং স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ করার জন্য পুত্রবধূ আরিফা আক্তার উর্মির পরিকল্পনায় এবং শাহনাজ বেগমের ইন্ধনে তিনজন মিলে আসমা আক্তারকে প্রথমে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে এবং মুখ চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে চালিয়ে দিতে উজ্জ্বল উর্মির হাত-পা ও চোখ বেঁধে তাকে অচেতন হওয়ার ভান করে পড়ে থাকতে বলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়। উজ্জ্বল ও নিহতের পুত্রবধূ উর্মি ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ১ ভরি ৮ আনা স্বর্ণালংকার, নগদ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার হয়েছে।