পঞ্চগড় সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে মারতে উদ্যত হয়ে স্থানীয়দের রোষের মুখে পড়েন আলিউল ইসলাম নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব। তাকে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ করে রাখা হলে পুলিশ এসে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার ( ৯ এপ্রিল) রাতে উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, আলিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ফান্ডের অর্থ তসরুপ, ইউপি সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ছিল। ঘটনার দিন বিকালে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউপি সদস্যদের নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম। এ সময় প্রশ্নের জেরে ক্ষুব্ধ হন আলিউল ইসলাম। তিনি নুর-ই-আলমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি চেয়ারম্যানকে মারতে উদ্যত হন। এ সময় উপস্থিত অন্যরা তাকে নিবৃত্ত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী গোবিন্দ চন্দ্র রায় বলেন, আমরা সভায় আয়-ব্যয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে সচিব হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে যান। পরে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি চেয়ারম্যানকে মারতে উদ্যত হন। আমরা ও গ্রাম পুলিশ মিলে তাকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।
এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয়রা পরিষদে এসে সচিবকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় তারা তার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। একইসঙ্গে তাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যাহারের দাবি তোলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের চেয়ারম্যান টানা দুইবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। তিনি একজন নীতিবান মানুষ। তার সঙ্গে আজকে যা ঘটেছে, তাতে আমরা ক্ষুব্ধ। এমন আচরণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
ইউপি সদস্য শফিউল আলম সফিক বলেন, এই সচিব যোগদানের পর থেকেই নিজের ইচ্ছেমত চলেন। অহেতুক ফান্ডের টাকা ব্যয় করেন। আমাদের সবসময় তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন। আজকে স্বয়ং চেয়ারম্যানের সঙ্গে যেটা হলো তা মানার মতো নয়।
ইউপি চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম বলেন, সচিব একক সিদ্ধান্তে পরিষদের চেয়ার-টেবিলসহ কিছু কেনাকাটা করেন। কেনাকাটায় অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে ভাউচার করেছেন। এসব জিজ্ঞেস করলে তিনি অযৌক্তিক আচরণ করেন এবং আমার ওপর মারমুখী হন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনার খবর শুনেছি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।