মৌলভীবাজারে পেট্রোলের সঙ্গে সিঁদুর মিশিয়ে নকল অকটেন তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ জেলার বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ২ হাজার ১২৫ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (৮ এপ্রিল) মধ্যরাতে জুড়ী উপজেলার সমাই বাজারে ‘মেসার্স ইউনিক ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালান ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা আক্তার এতে নেতৃত্ব দেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, অভিযানের শুরুতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তেল মজুতের বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে ৬০০ লিটার ডিজেল ও ৭৫০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়। এ সময় সেখান থেকে ৫০ গ্রাম সিঁদুর জব্দ করা হয়, যা পেট্রোলের রঙ পরিবর্তন করে নকল অকটেন তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতো। অবৈধ মজুত ও জালিয়াতির দায়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জুড়ী থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
একই সময়ে বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর বাজারের ‘নাফিজ ভ্যারাইটিজ স্টোর’-এ অভিযান চালান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানকালে ওই দোকানে অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ৭২৫ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়।
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রির অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯ অনুযায়ী দোকান মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা তেল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বড়লেখা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা গালিব চৌধুরী বলেছেন, “অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রির সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছি। জনস্বার্থে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে আমাদের নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে।”
জুড়ীর ইউএনও (ভারপ্রাপ্ত) সাবরিনা আক্তার বলেছেন, “অবৈধভাবে তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”