আন্তর্জাতিক

শেখ হাসিনা শরণার্থী নাকি অনুপ্রবেশকারী, অমিত শাহকে অভিষেকের প্রশ্ন

ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান ও আইনি মর্যাদা নিয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সাফ প্রশ্ন, “ভারতে শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস কী? তিনি অনুপ্রবেশকারী নাকি শরণার্থী? এর জবাব কি দিতে পারবেন অমিত শাহ?”

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র আক্রমণ শানান। তার দাবি, অমিত শাহ কলকাতায় এসে মন্তব্য করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত হওয়ার চেয়ে দিল্লি বা গুজরাট থেকে পরিচালিত হওয়াই ভালো, যা কার্যত বাংলাকে বাংলাদেশ হিসেবে দেখার শামিল।

ভারতীয় শেখ হাসিনার অবস্থান ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে এবারই প্রথম প্রশ্ন তোলা হলো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কিছু কথা বললেও সরাসরি শেখ হাসিনাকে আক্রমণ করে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখেননি। তবে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অনুপ্রবেশ ইস্যুতে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে মোদি সরকারের সমালোচনা করেছে।

অভিষেক বলেন, “যদি সত্যিই বাংলা বাংলাদেশের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, তাহলে দিল্লিতে শেখ হাসিনা কী করছেন? কেন তাকে দেড় বছর ধরে আশ্রয় দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার? কোন স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত?”

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে?”

পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপির অবস্থানকেও কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেতা। তার দাবি, “১০ বছর ধরে অনুপ্রবেশের কথা বলা হচ্ছে কিন্তু কাশ্মীর বা দিল্লির মতো জায়গায় নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থতা কেন?”

এ ছাড়া বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালিদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, “বাংলায় কথা বললেই জেলে ঢোকানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। যারা বাঙালি বিরোধী মন্তব্য করেছে, তাদেরই পুরস্কৃত করেছে বিজেপি।”

এনআরসি প্রসঙ্গেও সতর্কবার্তা দেন তিনি। অভিষেকের দাবি, আসামে এনআরসি প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৯ লাখ মানুষের নাম বাদ গিয়েছিল, যার মধ্যে বহু হিন্দুও ছিলেন। তার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গেও একই পরিকল্পনা করছে বিজেপি। তবে তৃণমূল সরকার থাকলে তা সফল হবে না।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। সেই থেকে দিল্লির সুরক্ষিত আবাসনে তার থাকার ব্যবস্থা করেছে ভারত সরকার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক ভারত সফরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন চেয়েছে বাংলাদেশ। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো বক্তব্য দেয়নি দিল্লি। অবশ্য তার প্রত্যাবর্তনের আবেদনের বিষয়ে ভারত আগেই বলে দিয়েছে, বিষয়টি তারা তাদের মতো করে দেখবে।