সারা বাংলা

পটুয়াখালীতে নীল পূজা ও চৈত্র সংক্রান্তির লোকজ আমেজ

পহেলা বৈশাখের আগের দিন পটুয়াখালী সদর উপজেলা, গলাচিপা ও বাউফলসহ জেলার বেশ কিছু মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে নীল পূজা ও চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব। তাই হিন্দুপাড়াগুলোতে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

এ উৎসব উপলক্ষে শিব, পার্বতী, রাধা, কৃষ্ণ, লক্ষ্মী, রাম, লক্ষ্মণ ও মুনিঋষি সাজে সজ্জিত হয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন সনাতনী কিশোর-কিশোরীরা। ঢাকঁ, কাঁসি ও সানাই বাজিয়ে গাজন যাত্রার মাধ্যমে সংক্রান্তির দান সংগ্রহ করছেন তারা। এসময় ধর্মীয় গানের সঙ্গে নাচ, মন্ত্রপাঠ ও উলুধ্বনীতে মুখরিত হয়ে উঠছে প্রতিটি বাড়ি।

এ উৎসব শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং বহু বছরের পুরোনো এক লোকজ ঐতিহ্য। এ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিদায়ী বছরের গ্লানি মুছে ফেলা, রোগমুক্তি এবং নতুন বছরের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করা হয় বলে জানায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

নীল দলের সঙ্গে আসা নিঠুর হাওলাদার জানান, জাকজমক পূর্ন আয়োজনে গলাচিপার গোলখালী ইউনিয়নে চৈত্রসংক্রান্তি ও নীল পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তাই নীল নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে নীল উৎসব উদযাপন করছি। আমাদের দলের সদস্যরা নেচে-গেয়ে নীল পূজার অর্থ সংগ্রহ করছেন। এসব অর্থ ও চাল, ডাল চৈত্র সংক্রান্তির দিন নীল পূজায় ব্যয় করা হবে।

কলাপাড়া পৌর শহরের চিংগড়িয়া এলাকার সনাতনী নারী গীতা রানী বলেন, নীল দল নীল নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসলে ওই ধূপ দিয়ে ভক্তি ভোগ করে প্রণাম করেছি। আমরা চৈত্র সংক্রান্তির দিন গোলখালীতে যাবো। তাই নীল দলকে অর্থ ও চাল, ডাল দিয়েছি।

কলাপাড়া শ্রী শ্রী মদন মোহন সেবাশ্রমের পুরোহিত নির্মল চক্রবর্তী বলেন, চৈত্রসংক্রান্তির আগের দিন প্রতিটি বাড়ির সনাতন বধূরা উপবাস থাকেন। সন্ধ্যায় মহাদেবের পূজা করেন। মহাদেবের আরেকটি নাম নীল। এ পূজাকে ঘিরেই নীল উৎসবের আয়োজন করা হয়।