অর্থনীতি

বিদায়ী সপ্তাহে সূচক-লেনদেনে উত্থান, মূলধনে মিশ্র প্রবণতা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (৫ থেকে ৯ এপ্রিল, ২০২৬) সূচকের উত্থানের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। এ সময়ে উভয় পুঁজিবাজারে টাকার পরিমাণে লেনদেন বেড়েছে। তবে বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে বাজার মূলধন কমেলেও সিএসইতে বেড়েছে, অর্থাৎ মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে ।

‎শনিবার (১১ এপ্রিল) ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির খবরে গত ৮ এপ্রিল দেশের পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হলেও, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার শঙ্কায় গত ৯ এপ্রিল আবারো দরপতন হয়েছে। চলতি সপ্তাহের (৫-৯ এপ্রিল) মধ্যে বাজারের অস্থিরতা স্পষ্ট লক্ষ্য করা গেছে। যেখানে ৮ এপ্রিল প্রধান সূচক ১৬১ পয়েন্ট বাড়লেও, পরেরদিন ৯ এপ্রিল ৬০ পয়েন্ট কমে। তেলের দাম বৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্য অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য মতে, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ০.৭৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৫৭.৭০ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১.১০ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ২.২১ পয়েন্টে, ডিএসই শরিয়াহ সূচক ০.৩৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৩.১৮ পয়েন্টে এবং ডিএসএমইএক্স সূচক (এসএমই ইনডেক্স) ১১.৩৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৫.৯৫ পয়েন্টে।

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬২ কোটি ৭৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৬ লাখ ৮৯ হাজার ৩৯৯ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৭৩৭ কোটি ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৮ কোটি ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ৩৪১ কোটি ৭২ লাখ ৯০ হাজার টাকার। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৬ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, দর কমেছে ২২০টির ও দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির। তবে লেনদেন হয়নি ২৪টির।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ০.৪৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৭৭৩.৮৫ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসই-৩০ সূচক ০.৮৬ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার ৯৬৭.৩৭ পয়েন্টে, সিএসসিএক্স সূচক ০.৬২ শতাংশ বেড়ে ৯ হাজার ৩৯.১৫ পয়েন্টে, সিএসআই সূচক ০.৩৪ শতাংশ বেড়ে ৮৯৮.১৬ পয়েন্টে এবং এসইএসএমইএক্স (এসএমই ইনডেক্স) ৬.৪৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৮১.১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ২ হাজার ৯০৪ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৯ লাখ ৬৬৬ কোটি ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন বেড়েছে ২ হাজার ২৩৮ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

বিদায়ী সপ্তাহে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ২৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আর বিদায়ী সপ্তাহের আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১৮৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ২৯৭টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৩টির, দর কমেছে ১৪৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির শেয়ার ও ইউনিট দর।