আন্তর্জাতিক

এখনও ইরানের হাতে রয়েছে হাজারো ক্ষেপণাস্ত্র: রিপোর্ট

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ফুরিয়ে যায়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একটি নতুন মূল্যায়নের বরাত দিয়ে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, ইরানের হাতে এখনও হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় আটকে পড়া ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চারগুলো উদ্ধার ও পুনরায় সচল করার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে। খবর রোয়া নিউজের।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। বর্তমানে হামলা ও ব্যবহারের পর এক হাজারটিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র টিকে আছে। যদিও ইরানের মোট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ প্রায় অর্ধেক কমে গেছে, তবে অবশিষ্ট স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখনো বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা রাখে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে- ইরানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চার (উৎক্ষেপক) ধ্বংস বা অকেজো হয়ে গেছে। অনেক লাঞ্চার ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে আটকা পড়েছে, তবে ইরান সেগুলো উদ্ধার করার করার চেষ্টা করছে। তেহরানের ড্রোন মজুদ যুদ্ধপূর্ব অবস্থার তুলনায় ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। তেহরান এই কর্মসূচি কতটা দ্রুত পুনর্গঠন করতে পারবে, তা অনেকটা রাশিয়া বা চীনের সহায়তার ওপর নির্ভর করছে।

পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ‘কার্যত ধ্বংসপ্রাপ্ত’ এবং তাদের মজুদ ‘নিঃশেষিত’।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টগুলো কিছুটা ভিন্ন ও সতর্কবার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, ১৩ হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ ব্যবহার করে চালানো অভিযানের পরেও ইরান তাদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে অবিশ্বাস্য দক্ষতা দেখাচ্ছে।

এই সামরিক পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি থেকে বিরত রাখাই এখন পশ্চিমা শক্তিগুলোর মূল লক্ষ্য।বর্তমানে তেহরানের কাছে থাকা সীমিত সংখ্যক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও অবশিষ্ট ড্রোনগুলো এখনো মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনী ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।