‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজনে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বরণে নানামুখী প্রস্তুতি চলছে। নতুন-পুরোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক আর দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়েছে চারুকলা প্রাঙ্গন। কেউ পটের ছবি আঁকতে ব্যস্ত, কেউবা মুখোশে তুলির আঁচড়ে এঁকে নিচ্ছেন রঙিন রেখা। আবার কেউ ব্যস্ত মুখোশ, জলছবি আর পেইন্টিং বিক্রিতে।
শোভাযাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বড় বড় পাঁচটি মোটিফ। এবার শোভাযাত্রায় বড় স্ট্রাকচারে কোন কোন মোটিফ দেখা যাবে, সে বিষয়ে রাইজিংবিডিকে শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক তাছলিমা বেগম বলেন, ‘‘এবার বড় আকারে সোনারগাঁ লোকশিল্পের ঘোড়া, হাতি, মোরগ, দোতারা আর কবুতর থাকবে শোভাযাত্রায়।’’
এ ছাড়াও ছোট ছোট স্ট্রাকচারে বাংলার ঐতিহ্যবাহী নানা মোটিফ থাকবে বলে জানান এই শিক্ষক।
শিশুর সঙ্গে মুখোশ রং করছেন চারুকলার প্রাক্তণ শিক্ষার্থী রাজ্জাক প্রধান লিটন
ঐতিহ্যপ্রেমী মানুষেরা চারুকলায় এসে দেখে-শুনে কিনে নিচ্ছেন নিজেদের পছন্দসই আলপনা আঁকা রঙিন মাটির সরা, মুখোশ, পেইন্টিং।
মোহাম্মদ মাহফুজ, খণ্ডকালীন শিক্ষক, চারুকলা অনুষদ বলেন, ‘‘মাটির সরা, মুখোশ, পেইন্টিং সবই এবার ভালো বিক্রি হচ্ছে। অনেকে বাসা সাজানোর জন্য কিনে নিচ্ছেন এই সব মুখোশ, শো-পিস এবং জলরঙে আঁকা ছবি। এগুলো কেনা হচ্ছে করপোরেট অফিসের জন্যও।’’
পালকিতে উঠে খুশি এক দর্শনার্থী শিশু
শিশুদের কথা চিন্তা করে তাদের কিছু প্রিয় কার্টুন ক্যারেক্টার পেইন্টিংয়ে রাখা হয়েছে বিক্রয়কেন্দ্রে। এখানে পেইন্টিংয়ের কাজ মূলত চারুকলার শিক্ষার্থীরাই করছেন।
চারুকলার ২০০৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাজ্জাক প্রধান লিটনের সঙ্গে কথা হলো। তিনি এসেছিলেন ক্যানভাসে ছবি আঁকার জন্য; তার আগে মুখোশ রং করছিলেন। এমন সময় এক শিশু এসে মুখোশ রং করার অনুমতি চায়। তিনিও তাকে কাছে ডেকে নেন।
রাজ্জাক প্রধান লিটন বলেন, ‘‘আমরা চাই সবার ইনভলভমেন্ট। আমাদের মূল মেসেজ হচ্ছে সৌহার্দ্যের বার্তা পৌঁছানো—জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের কাছে। সুতরাং এখানে যত বেশি মানুষের সমাগম হবে, আমরা তত বেশি আনন্দিত হব।’’
সোহানা সাকি, পারফর্মিং আর্ট টিচার, আলোকধারা স্কুল।
স্বামী-সন্তানকে নিয়ে চারুকলার আয়োজন দেখতে এসেছিলেন সোহানা সাকি, পারফর্মিং আর্ট টিচার, আলোকধারা স্কুল। তিনি বলেন, ‘‘এখানে না আসলে আসলে বৈশাখের রঙ ফিরে পাই না। তাই এসেছি।’’
ছবি: রেজওয়ান রোহান