রাজনীতি

রাজধানী‌তে ইসলামী ফ্রন্টের বিক্ষোভ

মাদ্রাসা পাঠ্যবইয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা পুনঃসংযোজন, মব সন্ত্রাসে নিহত আলেমে দ্বীন মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার বিচার, চাকরিচ্যুত ইমাম-খতিবদের পুনর্বহালসহ ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট।

শ‌নিবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবরে সামনে এই কর্মসূ‌চি অনু‌ষ্ঠিত হয়। দল‌টির ঢাকা মহানগর আ‌য়ো‌জিত সমা‌বে‌শে সভাপ‌তিত্ব ক‌রেন  সিনিয়র সহসভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম।

দ‌লের নেতা হাফেজ মোহাম্মাদ শাহজালালের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তা ছি‌লেন ইসলামী যুবসেনার কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ার।

বক্তব‌্য রা‌খেন সহসভাপতি শাহেদুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন নুরী, ইঞ্জিনিয়ার আলম জালালী, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ মাসউদ হোসাইন, আলম ফরাজী, হাফেজ জাবের হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ার আলম ও কবি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন জনি প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, “মব কালচার কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মব সন্ত্রাসীরা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় মতাদর্শের কারণ পরিকল্পিতভাবে ইমাম মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আকাঈদ ও ফিকহ পাঠ্যপুস্তকে ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদা পুনঃসংযোজন; একই সঙ্গে অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে বাদ দেওয়া মহানবী (সা.)-এর রওজা জিয়ারত ও উসিলা গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। তাছাড়া মব সন্ত্রাসের অজুহাতে চাকরিচ্যুত শিক্ষক, ইমাম, খতিব ও ব্যাংকারদের চাকরিতে পুনর্বহাল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশের স্বার্থবিরোধী বন্দর ও একতরফা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং আউলিয়া কেরামের মাজার শরীফে হামলার ঘটনাগুলোর নিন্দা, ক্ষতিগ্রস্ত মাজার শরীফগুলো সরকারি খরচে পুনর্নির্মাণ এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইসরায়েল ও মার্কিন আগ্রাসনের শিকার ইরানের জনগণের প্রতি আমরা সংহতি প্রকাশ ক‌রে নেতারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।

সমা‌বেশ শে‌ষে একটি বি‌ক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ দৈনিক বাংলা মোড়ে এসে শেষ হয়।