লাইফস্টাইল

স্কিন সাইক্লিং: টানা ৪ রাতের রূপ রুটিনে নতুন ট্রেন্ড

এই গরমে স্কিনকেয়ারের যে ট্রেন্ডটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, তা হলো ‘স্কিন সাইক্লিং’। কম জ্বালা, কম রিঅ্যাকশন এবং কার্যকর ফল—এই তিন কারণেই এটি বিউটি রুটিনে নতুন করে জায়গা করে নিয়েছে।  নিউ ইয়র্কের এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এই পদ্ধতিকে আলোচনায় আনেন। 

কী এই স্কিন সাইক্লিং? স্কিন সাইক্লিং মূলত একটি চার রাতের চক্রভিত্তিক স্কিনকেয়ার রুটিন। এতে প্রতিটি রাতে নির্দিষ্ট ধাপে ত্বকের যত্ন নেওয়া হয়।

প্রথম রাত—এক্সফোলিয়েশন, অর্থাৎ ত্বকের মৃত কোষ দূর করা।

দ্বিতীয় রাত—রেটিনয়েড ব্যবহার, যা ত্বকের পুনর্গঠন ও নবায়নে সাহায্য করে।

তৃতীয় ও চতুর্থ রাত—রিকভারি বা বিশ্রাম, এই সময় ত্বক নিজেকে মেরামত করে এবং প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার পুনরুদ্ধার করে।

খেয়াল রাখতে হবে

গরমকালে ত্বকের আচরণ অনেকটাই বদলে যায়। অতিরিক্ত তাপ, ঘাম এবং আর্দ্রতা ত্বকে সেবাম উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বক তৈলাক্ত হয়ে পড়ে এবং ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে ব্রণ, ফাঙ্গাল সংক্রমণ কিংবা ঘামাচির মতো সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এই অবস্থায় স্কিন সাইক্লিং ঠিকভাবে মানিয়ে না নিলে উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি।

সবচেয়ে সাধারণ ভুল বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমকালে অতিরিক্ত শক্তিশালী রেটিনয়েড ব্যবহার করলে এবং ত্বককে পর্যাপ্ত বিশ্রাম না দিলে ত্বক আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। এতে লালচে ভাব, জ্বালা বা ব্রেকআউট বাড়ার ঝুঁকি থাকে।  এজন্য গরমের জন্য স্কিন সাইক্লিংয়ে ভারী ক্রিমের বদলে হালকা, সেরামাইডযুক্ত এবং নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। এতে ত্বক আর্দ্র থাকবে, কিন্তু ভারী লাগবে না। একই সঙ্গে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তরও বজায় থাকবে।

সানস্ক্রিন—অবহেলা নয় স্কিন সাইক্লিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সানস্ক্রিন ব্যবহার। বিশেষ করে এক্সফোলিয়েশনের পরের দিন ব্রড-স্পেকট্রাম SPF ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। তা না হলে সূর্যের রশ্মিতে ত্বকের পিগমেন্টেশন বা দাগ বেড়ে যেতে পারে।

রিকভারির সময় বাড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ গরমকালে ত্বকের ওপর চাপ বেশি পড়ে। তাই অনেক ক্ষেত্রে দুই দিনের বদলে তিন দিন পর্যন্ত রিকভারির সময় রাখা ভালো—বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রণপ্রবণ। এতে ত্বক পর্যাপ্ত সময় পায় নিজেকে পুনর্গঠনের জন্য। স্কিন সাইক্লিং নিঃসন্দেহে একটি কার্যকর স্কিনকেয়ার পদ্ধতি। সঠিকভাবে মানিয়ে নিতে পারলে গরমকালেও এই পদ্ধতি ত্বককে রাখতে পারে সুস্থ, সতেজ এবং উজ্জ্বল।