আন্তর্জাতিক

সবার নজর এখন ট্রাম্পের দিকে

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। এরপর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দ্রুত প্রস্থান এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রহস্যময় নীরবতায় যুদ্ধের ভবিষ্যত নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর আল-জাজিরার।

আল-জাজিরার ইসলামাবাদ সংবাদদাতা কামাল হায়দার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথা থাকলেও তার আগেই জেডি ভ্যান্স ঘোষণা করেন যে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এর কিছুক্ষণ পরেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

কামাল হায়দারের মতে, এই অচলাবস্থার মূল কারণ ছিল লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে অনিচ্ছা। এছাড়া হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকার শর্তগুলোও ইরানের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।

এই মতপার্থক্যগুলোই শেষ পর্যন্ত আলোচনার মূল অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। লেবাননে ইসরায়েলের নির্বিচার বোমা হামলায় শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইরান এ ঘটনাকে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। 

পাকিস্তান আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে চায়। কিন্তু এখন বল ওয়াশিংটনের কোর্টে। এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প কী বলেন, এখন সেদিকেই সবার নজর।

ইরানকে আলোচনায় বসার হুমকি দিয়ে কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প বলেছিলেন, “আজ রাতে একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরে আসবে না।” সেখানে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর তার নীরবতাকে ‘ভয়াবহ’ বলে অ্যাখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প কি পুনরায় যুদ্ধের হুমকি দেবেন, নাকি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন- তা জানার অপেক্ষায় আন্তর্জাতিক মহল।