সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলো পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একইসঙ্গে এ সব অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধীদল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী বলেন, রহিত হওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে সরকার ইতিমধ্যে সংশোধনের মাধ্যমে সেগুলো যাচাই-বাছাই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি ইতোমধ্যে কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর মধ্যে ৭টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে চারটি বিলের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে। বাকি ১৩টি অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পর নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পাওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, স্বতন্ত্র সচিবালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও মানবাধিকার কমিশনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় সেগুলো নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে যারা দাবি করছেন, সরকার এ সব অধ্যাদেশ বাতিল করে দিয়েছে, তারা মূলত জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।
বিরোধীদলীয় নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এ সব অধ্যাদেশ বাতিলের ফলে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আবারো আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে সরকার বলছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো সমাধান করা হবে।