নাটোরের বড়াইগ্রামে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে শ্যালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে শ্যালিকা তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার বনপাড়া পৌর শহরে বাবার বাড়িতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন স্ত্রী ফারজানা আক্তার অপি।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম ইকবাল হোসেন। তিনি বনপাড়া পৌর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক।
সংবাদ সম্মেলনের পরদিনই অভিযুক্ত ইকবালকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক আসিফ ইকবাল নতুনের স্বাক্ষরিত পত্রে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বনপাড়া পৌর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক পদ ও সদস্য থেকে ইকবাল হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল নেতা ইকবাল হোসেনের স্ত্রী অপি অভিযোগ করে বলেন, ২০১৭ সালের মে মাসে ইকবালের সঙ্গে আমার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। আমাদের পাঁচ বছরের এক ছেলে আছে। গত এক বছর ধরে ইকবাল কোনো কারণ ছাড়াই মাঝে মধ্যে আমার বাবার বাড়িতে আসত। পরে জানতে পারি, আমার ১৬ বছর বয়সী ছোট বোনকে ফুসলিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। জানার পর ইকবালকে বিভিন্নভাবে বোঝানো হয়েছে। সম্প্রতি বোন অসুস্থ হয়ে পড়লে জানতে পারি, সে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, দুলাভাইয়ের ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, গত ৩ এপ্রিল হঠাৎ আমার বোন নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় থানায় জিডি করার পর গত শুক্রবার বিকেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আমাদের জিম্মায় দেয়। খবর পেয়ে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইকবাল ও তার ছোট ভাই মাহবুব এসে জোরপূর্বক বোনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস ছালাম বলেন, অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগীর বাবা থানায় মামলা করেছেন। এ ব্যাপারে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।