কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দরবারপ্রধান ‘পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের (৬৫) দাফন হয়েছে।
রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে জানাজা শেষে দাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, বিকেল ৪টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি এলাকায় পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে উৎসুক জনতা ভিড় করেন। তার আগে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ‘পীর’ শামিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিহতের শরীরে একাধিক জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিশেষ করে মাথা, ঘাড়, পিঠে তুলনামূলক গভীর জখমের চিহ্নের আলামত দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একাধিক জখমে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় অবস্থিত ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, শনিবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে শামিমকে একটি অনুষ্ঠানে ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারটিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এতে ঘটনাস্থলেই শামিম নিহত হন। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত শামিম ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে, ২০২১ সালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।