আন্তর্জাতিক

ইরানের বন্দর অবরোধের ঘোষণা মার্কিন সামরিক বাহিনীর

ইরানের সব বন্দর সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পদক্ষেপ। খবর আল-জাজিরার।

স্থানীয় সময় রবিবার (১২) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল পূর্বঞ্চলীয় সময় সকাল ১০টা থেকে এই অবরোধ ‘ইরানি বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী এবং সেখান থেকে বের হওয়া সব সামুদ্রিক যাতায়াতের’ ওপর প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরসহ ইরানি বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘সব দেশের জাহাজ’ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 

তবে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী “ইরান ব্যতীত অন্যান্য বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা দেবে না।”

যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধের হুমকির পর মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৪.২৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে ১০২.২৯ ডলারে পৌঁছেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ মূলত ইরানের হাতে। এর ফলে এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল অত্যন্ত ধীর হয়ে পড়েছে, যা বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহকে প্রায় অচল করে দিয়েছে।

ইরান এই প্রণালি দিয়ে নিজের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রেখেছে এবং অন্যান্য দেশের সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। ইরানি কর্মকর্তারা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর একটি টোল ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা করেছেন।

ট্রাম্পের অবরোধের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যেকোনো অগ্রসরমান সামরিক জাহাজকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির (যা ২২ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা) লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাদের ‘কঠোরভাবে দমন করা হবে’।

ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, যা নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।