ময়মনসিংহের ভালুকায় বাবা ও ছেলের পৃথক দুই রাজনৈতিক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় ছেলের পিস্তলের গুলিতে বাবা খোকা মিয়া (৫০) আহত হয়েছেন। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জামিরদিয়া নারিশের গেইট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
ভালুকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
আহত খোকা মিয়া উপজেলার জমিরদিয়া মাস্টার বাড়ি এলাকার আব্দুল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ আসনে খোকা মিয়া ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর সমর্থক ছিলেন। ছেলে রানা মিয়া ছিলেন মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোর্শেদ আলমের সমর্থক। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ ছিল।
রবিবার দুপুর আড়াইটার নির্বাচনের পর থেকে বন্ধ থাকা নারিশের মোড়ের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খুলে বসেন ছেলে রানা মিয়া। বিষয়টি দেখতে পেয়ে কার্যালয় বন্ধ করতে বলেন খোকা মিয়া। এ নিযে বাবা ছেলের মাঝে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় রানা মিয়া গুলি করেন। এতে খোকা মিয়া আহত হন। মারধরের শিকার হন আরো একজন। দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পরে স্থানীয়রা আহত দুইজনকে উদ্ধার করে ভালুকা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। গুলিবিদ্ধ খোকা মিয়াকে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। খোকা মিয়া বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।
এ বিষয়ে জানতে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ও নির্বাচনে পরাজিত মো. মোর্শেদ আলমকে ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ নজরুল ইসলাম বলেন, “নির্বাচনী দ্বন্দ্বে আহত অবস্থায় খোকা নিয়া নামে একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। খোকা মিয়ার শরীরে ধারালো অস্ত্রের কোপ ও গুলির চিহ্ন রয়েছে।”
ভালুকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহেদুল ইসলাম বলেন, “বাবা-ছেলের সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে খোকা মিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”