জাতীয়

বৈশাখে জিয়া উদ্যানে জনস্রোত

নতুন বছরের প্রথম দিনে ক্লান্ত শহর যেন একটু নিঃশ্বাস নিতে চায়। সেই নিঃশ্বাসের খোঁজে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মানুষের ঢল নামে জিয়া উদ্যানে।

সকাল গড়াতেই রঙিন পোশাক, হাসিমুখ আর স্মৃতিবন্দি মুহূর্তে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। তবে বিকেলের দিকে সেই আনন্দ রূপ নেয় জনসমুদ্রে।

পহেলা বৈশাখের সকালটা ছিল তুলনামূলক স্বস্তির। ছুটির আমেজে শহরের অনেক সড়কেই যানবাহনের চাপ কম ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিত্র বদলাতে থাকে। খামারবাড়ি থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত ধীরে ধীরে জমতে থাকে গাড়ির সারি। ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, রিকশা সব মিলিয়ে একপর্যায়ে সড়ক প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

এই চাপের কেন্দ্রবিন্দু ছিল জিয়া উদ্যান। নতুন বছর উদযাপনের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন এখানে। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ একা কেবল উৎসবের অংশ হতে। অনেকে যানজটে আটকে পড়ে শেষ পর্যন্ত গাড়ি ছেড়ে হেঁটেই উদ্যানে পৌঁছান।

মিরপুর থেকে আসা দর্শনার্থী নাজিউর রহমান বলেন, “খামারবাড়ি থেকেই গাড়ি এগোচ্ছিল না। শেষে নেমে হাঁটতেই হয়েছে। তবে এখানে এসে ভালো লাগছে সবাই আনন্দ করছে।”

মোহাম্মদপুর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে আসা নাদিয়া আলমাসের কণ্ঠে ছিল উৎসবের উচ্ছ্বাস। তিনি বলেন,“লাল শাড়ি পরে বের হয়েছি সবাই মিলে। ছবি তুলব, একটু ঘুরব এই আনন্দটাই আসল।”

পুরান ঢাকার বাসিন্দা জনি ইসলাম বলেন, “ঢাকার মধ্যে এমন খোলামেলা জায়গা খুব কম। তাই ছুটির দিন মানেই এখানে আসা।” একই অভিজ্ঞতা ধানমন্ডি থেকে পরিবার নিয়ে আসা জামানা হকের। তিনি বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে যায় অনেক সময়। আজ ওরা খুব খুশি।”

উত্তরা থেকে আসা মনির হাসান বলেন, “ট্রাফিক ছিল, কিন্তু এখানে এসে সব কষ্ট ভুলে গেছি। পরিবেশটা খুব সুন্দর।”

মতিঝিলের চাকরিজীবী শারমিন আক্তার বলেন, “সারা বছর কাজের চাপ। এমন একটা দিনে পরিবারকে সময় দিতে পারছি এটাই বড়।”

শুধু দর্শনার্থী নয়, এই ভিড়ের ভেতরে ছিল জীবিকার খোঁজও। গাবতলী এলাকা থেকে আসা রিকশাচালক করিম হোসেন যাত্রী নামিয়ে নিজেও একটু সময় কাটাতে ঢুঁ মারেন উদ্যানে। “যাত্রী নামিয়ে আমিও একটু ঘুরে দেখছি। এমন দিন তো বারবার আসে না,” বলেন তিনি।

উদ্যানজুড়ে ছিল হকারদের সরব উপস্থিতি। কাচের চুড়ি, খেলনা, ফুল, মুখরোচক খাবার। সবকিছু নিয়েই বসেছেন তারা। বিক্রেতা সাফিয়া বলেন, “দুপুরের তীব্র রোদে ভিড় কিছুটা কম থাকলেও বিকেলে পরিস্থিতি বদলে যায়। মানুষ বাড়লে বিক্রিও বাড়ে।”

মেলা ঘুরে উদ্যানে আসা নিয়াজ মাহমুদ বলেন, “মেলায় ভিড় আর রোদ বেশি ছিল। এখানে গাছের ছায়ায় বসে একটু শান্তিতে সময় কাটাতে পারছি।”

দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রাশেদুল ইসলাম বলেন, “বিকেলের দিকে দর্শনার্থীর চাপ হঠাৎ বেড়ে যায়। এজন্য বিজয় সরণি এলাকায় যানজট তৈরি হয়েছে। আমরা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছি এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”