মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যে সংঘাত কমে আসায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ‘শেষের খুব কাছাকাছি’ পর্যায়ে রয়েছে। খবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের।
ফক্স বিজনেসের সঞ্চালক মারিয়া বার্টিরোমোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি এটি শেষের কাছাকাছি। হ্যাঁ, আমার দৃষ্টিতে এটি শেষ হওয়ার খুব সন্নিকটে।” সাক্ষাৎকারটি বুধবার (১৫ এপ্রিল) ‘মর্নিংস উইথ মারিয়া’ অনুষ্ঠানে প্রচারিত হবে।
পাকিস্তানে গত সপ্তাহের স্থবির হয়ে পড়া আলোচনার পর বৃহস্পতিবার থেকে মার্কিন-ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার খবরের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য এল।
গত সোমবার ট্রাম্প ইরানের সমস্ত বন্দরে নৌ-অবরোধের নির্দেশ দেন, যা সংঘাতের একটি নতুন মোড় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমা হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছিল।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা বললেও ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তিনি বলেন, “আমি যদি এখনই সব গুটিয়ে চলে আসি, তাহলে তাদের এই দেশ পুনর্গঠন করতে ২০ বছর সময় লাগবে। এবং আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। দেখা যাক কী হয়। আমি মনে করি তারা খুব মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি করতে চায়।”
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধকরণ পরিকল্পনা নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
এই আলোচনায় বড় কোনো সাফল্য না এলেও ভ্যান্স সোমবার জানিয়েছেন যে, ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে এবং এই সংঘাতের পরবর্তী ধাপে কী ঘটবে তার সিদ্ধান্ত এখন ইরানের হাতে। ভ্যান্স ‘স্পেশাল রিপোর্ট’-এ বলেন, “বল এখন সম্পূর্ণ তাদের কোর্টে। পরবর্তী কী হবে তা ইরানিরাই নির্ধারণ করবে।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে তেহরানে হামলা চালালে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতে জড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে ট্রাম্প ‘মর্নিংস উইথ মারিয়া’-তে বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিরস্ত্র করার জন্য এটি প্রয়োজনীয় ছিল। তিনি বলেন, “আমাকে এই পথ বেছে নিতে হয়েছিল, কারণ আমি যদি তা না করতাম, তাহলে এখনই ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত। আর যদি তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তাহলে আপনাদের সেখানে সবাইকে ‘স্যার’ বলে ডাকতে হতো, যা আপনারা নিশ্চয়ই চান না।”