ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচসহ নতুন তামাকজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে—পৃথক আইন প্রণয়ন, আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী তামাক কোম্পানি অনুমোদন এবং ই-সিগারেট আমদানি নিষিদ্ধ বহাল রাখা।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নিয়ন্ত্রণহীন ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচ: শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হুমকি’ শীর্ষক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ছয়টি তামাকবিরোধী সংগঠন এসব দাবি জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল অ্যাডভোকেটস (বিটিসিএ) মডারেটর ফারহানা জামান লিজা।
প্রবন্ধে বলা হয়, সম্প্রতি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশোধনের সময় ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট যেমন ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট—সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে এসব পণ্য নিষিদ্ধের বিধানও বিলুপ্ত করা হয়েছে, ফলে দেশে কার্যত এগুলোর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকছে না।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অনুসরণ না করেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক। এতে করে বিক্রেতারা যেকোনো বয়সীদের কাছে এসব নেশাজাত পণ্য বিক্রি করতে পারবে এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে নিকোটিনে আসক্ত হওয়ার ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বাড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে আমদানি আদেশ ও আপিল বিভাগের নির্দেশনার মাধ্যমে ই-সিগারেটের ওপর কিছু নিয়ন্ত্রণ থাকলেও নতুন আইনের কারণে তা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে বাজারে নতুন করে এসব পণ্যের বিস্তার ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক এলাকায় ই-সিগারেটের দোকান গড়ে উঠছে এবং তরুণদের আকৃষ্ট করতে অবৈধ বিজ্ঞাপন চালানো হচ্ছে। যদিও গত এক বছর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এই প্রবণতা কিছুটা কমেছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম আসক্তি তৈরি করে এবং এটি নিরাপদ নয়। ইতোমধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বহু দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এটিকে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি হিসেবে অনুমোদন দেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে নতুন প্রজন্ম মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে এবং দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাবে।