খেলাধুলা

কঠিন সমীকরণে রিয়াল, তবু আশা ছাড়ছে না

চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আজ বুধবার দিবাগত রাতে এক মহারণের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। যেখানে বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথম লেগে পিছিয়ে পড়ার পরও লড়াইয়ে ফেরার আশা ছাড়ছে না স্প্যানিশ জায়ান্টরা, যদিও ম্যাচটি ঘিরে তাদের অবস্থান কিছুটা অস্বস্তিকরই।

বার্নাব্যুতে প্রথম লেগে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর কিলিয়ান এমবাপ্পে-র এক গোল রিয়ালকে কিছুটা হলেও ম্যাচে ফেরায়। সেই গোলই এখন তাদের জন্য বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিতীয় লেগের আগে। লা লিগায় বার্সেলোনার সঙ্গে শিরোপা দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়া এবং সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে মায়োরকা ও জিরোনার বিপক্ষে মাত্র ১ পয়েন্ট পাওয়ার পর, এই ইউরোপীয় মঞ্চই এখন রিয়ালের প্রধান আশ্রয়।

তবে ইতিহাস বলছে, বড় মঞ্চে বারবার চমক দেখাতে জানে রিয়াল। তবুও গত মৌসুমে একই রাউন্ডে আর্সেনালের বিপক্ষে প্রথম লেগে পিছিয়ে পড়ে ঘুরে দাঁড়াতে না পারার অভিজ্ঞতা এখনও তাজা। যা শেষ পর্যন্ত কোচ কার্লো আনচেলোত্তির বিদায়ের পথও সুগম করেছিল।

দলের গঠন নিয়েও প্রশ্ন আছে। ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের উদ্যোগে এমবাপ্পেকে দলে আনা হলেও অনেকেই মনে করেন, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের উপস্থিতিতেই আক্রমণভাগ যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। দুজনেই বাম দিক থেকে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করায় কৌশলগত জটিলতাও তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, গোল কম করলেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র-ই দলের জন্য বেশি কার্যকর।

গত মাসে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে এমবাপ্পে ছাড়াই রিয়ালের ঝকঝকে পারফরম্যান্স সেই যুক্তিকেই আরও জোরালো করেছে। অন্যদিকে নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়া এখনও পুরোপুরি নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। বিশেষ করে মৌসুমের মাঝপথে জাবি আলোনসোকে সরানোর সিদ্ধান্তের পর থেকে।

রিয়ালের দুর্বল রক্ষণভাগের সামনে আবারও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবেন হ্যারি কেইন ও মাইকেল অলিসে। যিনি প্রথম লেগেই প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ভোগান্তিতে ফেলেছিলেন।

তবে সব প্রতিকূলতার মাঝেও রিয়ালকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এমবাপ্পে, ভিনিসিয়ুস ও জুড বেলিংহাম; এই তিন তারকার যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা ফেদেরিকো ভালভার্দেও বড় ভরসা।

গোলবারে থিবো কোর্তোয়া চোট কাটিয়ে ফিরতে পারলে তা বাড়তি শক্তি যোগাবে, যদিও বিকল্প হিসেবে আন্দ্রি লুনিনও নির্ভরযোগ্য।

সব মিলিয়ে, বায়ার্ন এগিয়ে থাকলেও ম্যাচটি একপেশে হওয়ার সম্ভাবনা কম। রিয়ালের ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস এবং তারকাসমৃদ্ধ আক্রমণভাগ এই লড়াইকে নিয়ে যেতে পারে অতিরিক্ত সময় পর্যন্তও। আর গোলের দিক থেকে নজর থাকবে ভিনিসিয়ুস বা বেলিংহামের দিকেই- যারা মুহূর্তেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।