ভারতীয় বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জি। টিভি রিয়েলিটি শো ‘নাচ ধুম মাচা লে’-এর মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। তারপর নাম লেখান বড় পর্দায়। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন কলকাতার তারকা অভিনয়শিল্পীরা। ওই বছরের ৩ মার্চ তৃণমূলে যোগ দেন সায়ন্তিকা ব্যানার্জি।
অভিনেত্রী থেকে নেত্রী হয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বাকুড়ার টিকিট পান সায়ন্তিকা। কিন্তু ৭৩৫ ভোটে হেরে যান। রাষ্ট্রবিজ্ঞান উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করলেও ভোটের রাজনীতিতে ভিন্ন এক ময়দান দেখতে পান তিনি। নির্বাচনে হেরে গেলেও রাজনীতি ছাড়েননি সায়ন্তিকা। রুপালি পর্দার পাশাপাশি রাজনীতির মাঠেও সক্রিয় এই অভিনেত্রী।
২০২৪ সালে বারানগর আসনে বিধানসভার উপ-নির্বাচনে দলের টিকিট নিয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন। আগামী ৩০ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। এবারো দলের টিকিট পেয়েছেন তিনি। নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলুন জেনে নিই, রাজনীতিতে পা দিয়ে তার অর্থভাগ্য কতটা বদলেছে—
ব্যাংকের হালহকিকত ২০২০-২১ অর্থ বছরে সায়ন্তিকার আয় ছিল ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৯৮০ রুপি, যা ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮০ রুপিতে। অর্থাৎ হাতে সিনেমার কাজ না থাকায়, কমেছে ব্যাংক ব্যালেন্স, অন্তত খাতা-কলমে তেমনটাই দেখা যাচ্ছে। অভিনেত্রী সায়ন্তিকা জানিয়েছেন, বর্তমানে তার হাতে আছে মাত্র ৩০ হাজার রুপি। সায়ন্তিকার হলফনামা অনুসারে, তার নামে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকলেও, সেভাবে অর্থ জমা নেই। কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স শূন্য। একটি অ্যাকাউন্টে সবচেয়ে বেশি জমা আছে, তার পরিমাণ হলো—৯ লাখ ১৫ হাজার ৭১৭ রুপি।
বিলাসবহুল গাড়ি, নেই সোনা সায়ন্তিকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হালহকিকত মোটামুটি হলেও, বেশ বিলাসবহুল গাড়িতে চড়েন। এ অভিনেত্রীর মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৩১ লাখ ৪৭ হাজার ৫২৫ রুপি। তবে নায়িকার কাছে খুব বেশি সোনা নেই। তার কাছে মাত্র ৩.৫২ গ্রাম সোনার গহনা রয়েছে। যার বাজারমূল্য ৪৮ হাজার রুপির মতো। সব মিলিয়ে সায়ন্তিকার অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য ৪১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৩১ রুপি।
সায়ন্তিকার মাথায় ঋণের বোঝা সায়ন্তিকা যে গাড়িটিতে চড়েন, তা ঋণ নিয়ে কেনা। গাড়ির জন্য প্রায় ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯১১ রুপি ঋণ নিয়েছেন। তাছাড়াও তার পার্সোনাল লোন রয়েছে ২৫ লাখ রুপি। অর্থাৎ অভিনেত্রীর ঘাড়ে ঋণের বোঝা এখন প্রায় ৫২ লাখ রুপি। সায়ন্তিকার নিজের নামেও কোনো বাড়ি নেই, নেই কোনো জমি। এমনকী, হলফনামা অনুসারে সায়ন্তিকার নাম পৈত্রিক সম্পত্তিও নেই।
চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার ২০০৯ সালে ‘ঘর সংসার’ সিনেমার মাধ্যমে টলিউড সিনেমায় অভিষেক ঘটে সায়ন্তিকার। অভিষেক চলচ্চিত্রে খুব একটা নজর কাড়তে পারেননি। ২০১০ সালে ‘টার্গেট: দ্য ফাইনাল মিশন’ এবং ‘হ্যাংওভার’ সিনেমায় অভিনয় করেন। পরের বছর ‘পাপি’ এবং ‘মনে পড়ে আজও সেই দিন’ সিনেমায় দেখা যায় তাকে। দুই বছরে চারটি সিনেমা মুক্তি পেলেও তার ক্যারিয়ারে খুব একটা জোরালো ভূমিকা রাখতে পারেনি।
২০১২ সালে মুক্তি পায় তার ‘আওয়ারা’ সিনেমা। এতে জিতের বিপরীতে অভিনয় করেন। মুক্তির পর বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলে, নজর কাড়েন সিনেমাপ্রেমীদেরও। একই বছরে তার অভিনীত ‘শুটার’ সিনেমা মুক্তি পায়। এটি মুক্তির পর অশ্লীলতার অভিযোগ ওঠে। তবে সায়ন্তিকার পারফরম্যান্স কিছুটা আশার আলো দেখায়। পরবর্তীতে টলিউড তারকা দেব, আবির চ্যাটার্জি, অঙ্কুশ, যীশু সেনগুপ্তসহ অনেকের সঙ্গে জুটি বেঁধে পর্দায় হাজির হন।
ঢালিউড কিং শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেও অভিনয় করেছেন সায়ন্তিকা। ‘নাকাব’ শিরোনামে এ সিনেমা যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছিল। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জায়েদ খানের বিপরীতে ‘ছায়াবাজ’ সিনেমায় শেষবার দেখা যায় সায়ন্তিকাকে। এরপর নতুন কোনো সিনেমায় নাম লেখাননি এই অভিনেত্রী।