সাতসতেরো

পূর্ণকালীন চাকরির ওপর নির্ভর করতে চাইছে না জেনজি 

পূর্ণকালীন চাকরি একসময় যেমন সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও নিরাপদ কর্মব্যবস্থা হিসেবে ধরা হতো, সেই ধারণা ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে। বিশেষত জেনজি (Gen Z) প্রজন্মের মধ্যে কাজ নিয়ে চিন্তাভাবনায় বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এর আগের প্রজন্মের কাছে একটি ফুল-টাইম চাকরি মানেই ছিল স্থিতিশীলতা, নানা সুবিধা, এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা। কিন্তু এখন অনেক তরুণ আর শুধু একটি চাকরির ওপর নির্ভর করতে চাইছে না।

বর্তমানে “পলি-এমপ্লয়মেন্ট” বা একসঙ্গে একাধিক কাজে যুক্ত থাকার প্রবণতা বেড়ে গেছে। অর্থাৎ, কেউ একই সময়ে একাধিক পার্ট-টাইম কাজ, ফ্রিল্যান্স কাজ বা ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব পালন করছে। এর পেছনে একটি বড় কারণ হলো অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ। অনেকেই বাড়তি আয়ের জন্য একাধিক কাজ করছে। তবে শুধু অর্থনৈতিক কারণই নয়, অনেক তরুণ ইচ্ছাকৃতভাবেও এই পথ বেছে নিচ্ছে, কারণ তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায় এবং নিজের সময় নিজের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

এই পরিবর্তনের পেছনে সামাজিক ও মানসিক কারণও রয়েছে। জেনজি প্রজন্ম তাদের বড়দের জীবন থেকে শিখেছে—দীর্ঘ সময় কাজ করা, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরতা, এবং হঠাৎ অর্থনৈতিক সংকটে পড়ার ঝুঁকি। বিশেষ করে ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট তাদের মনে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে। ফলে তারা এখন একটি চাকরির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে ঝুঁকি ভাগ করে নিতে চায়।

অন্যদিকে, বর্তমান চাকরির বাজারও তরুণদের জন্য খুব সহজ নয়। নতুন গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে বেকারত্বের হার তুলনামূলক বেশি। অনেকেই তাই প্রচলিত চাকরির বাইরে গিয়ে কারিগরি পেশা বা স্বনির্ভর কাজের দিকে ঝুঁকছে। আবার যারা চাকরি পাচ্ছে, তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই সেটি দীর্ঘদিন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিভিন্ন কারণে—যেমন উদ্যোগের অভাব, দুর্বল যোগাযোগ দক্ষতা বা অপেশাদার আচরণ—অনেক তরুণ দ্রুত চাকরি হারাচ্ছে। ফলে তারা আবার নতুনভাবে একাধিক কাজের দিকে ঝুঁকছে।

এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যারা AI ব্যবহার করতে পারছে, তারা একাধিক কাজ সহজে সামলাতে পারছে এবং কাজের দক্ষতা বাড়াতে পারছে। AI তাদের সময় বাঁচাতে সাহায্য করছে এবং কাজের সময়সূচি আরও নিয়ন্ত্রিত করতে দিচ্ছে। তবে সবাই AI-কে ইতিবাচকভাবে দেখছে না। অনেকেই মনে করছে AI তাদের চাকরির জন্য হুমকি, কারণ এটি অনেক কাজ স্বয়ংক্রিয় করে দিতে পারে। এমনকি কিছু তরুণ কর্মী ইচ্ছাকৃতভাবে কর্মক্ষেত্রে AI ব্যবহারে বাধা দিচ্ছে।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, জেন জি প্রজন্মের কাজের ধরনে একটি বড় পরিবর্তন এসেছে। তারা শুধু বেশি আয় নয়, বরং স্বাধীনতা, নমনীয়তা এবং নিজের জীবনের ওপর নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই একাধিক কাজ করা বা পলি-এমপ্লয়মেন্ট এখন তাদের কাছে একটি বাস্তবসম্মত ও পছন্দনীয় বিকল্প হয়ে উঠেছে।

সূত্র: ইয়াহু ফাইন্যান্স