খেলাধুলা

প্রত্যাশা পূরণের পর বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি মিরাজ

ওয়ানডে বিশ্বকাপ এক বছর পর। বাংলাদেশের সরাসরি অংশগ্রহণ এখনো পেণ্ডুলামে ঝুলে আছে। এজন্য  দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশকে। সেই পথ পাড়ি দেওয়ার আগে একজন যোগ্য কান্ডারির প্রয়োজন ছিল। যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে।

ওয়ানডের দায়িত্ব মেহেদী হাসান মিরাজের কাঁধে ছিল। কিন্তু লম্বা সময়ের জন্য শুরুতে তার দায়িত্ব ছিল না। বিশ্বকাপের মিশনে সফলভাবে যেতে মিরাজ লম্বা সময়ের জন্য দায়িত্ব পেতে চেয়েছিলেন। কিছুদিন আগে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড তার প্রত্যাশা পূরণ করেন। ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মিরাজ বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

লম্বা সময়ের জন্য তাকে অধিনায়ক করার পেছনের কারণ- দলটাকে ঠিকঠাক মতো গোছাতে পারবে এবং বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে পারবে। পাকাপাকি অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে আগামীকালের ম্যাচ দিয়ে মিরাজের অভিযান শুরু হচ্ছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুটি ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ জিতেছে। আত্মবিশ্বাসে জ্বালানি আছে। মাঠে সেই প্রয়োগ চান। বিশ্বকাপের আগে প্রতিটি ম্যাচ সমান গুরুত্বের। সেই ভাবনা থেকেই কোনো ছাড় দিতে রাজি নন বাংলাদেশের অধিনায়ক। 

বৃহস্পতিবার ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে খোলাখুলি কথা বলেছেন মিরাজ। তিনি বলেন,  “২৭ সালের বিশ্বকাপ অবশ্যই একটা প্রক্রিয়ার ব্যাপার এবং লম্বা সময়ের ব্যাপার। ওখান পর্যন্ত যেতে হলে অবশ্যই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে এবং সিরিজ বাই সিরিজ ভালো খেলতে হবে। আমরা শেষ দুইটি সিরিজ খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি এবং প্রতিটি খেলোয়াড় বেশ আত্মবিশ্বাসী। সামনে যে সিরিজগুলো আছে সেজন্য তারা ব্যক্তিগতভাবে উন্নতি করছে এবং আমরা অনুশীলনে সেভাবেই চেষ্টা করছি।’’

লম্বা সময়ের জন্য অধিনায়কত্ব পাওয়ায় খুশি মিরাজ, ‘‘লম্বা সময়ের জন্য একজন অধিনায়ক যদি থাকেন, তাহলে ভালোভাবে বন্ডিং করতে পারে। স্বল্প সময়ের জন্য  কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হলে অধিনায়কের জন্য কঠিন হয়ে যায়। এটা ইতিবাচক দিক। এখন থেকে ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে পারব প্রতিটি সিরিজে এবং কোন কন্ডিশনে আমরা কোন খেলোয়াড় খেলাব, মানসিকভাবে কোন খেলোয়াড় ফ্রি থাকবে এটা একটা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মনে হয়, এটা একটা ভালো দিক।’’

আইসিসি-এর শর্ত পূরণ করে ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দীর্ঘ সময় ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের ৭ নম্বরে থাকা দলটি এখন নেমে গেছে ৯ নম্বরে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে- ২০২৭ বিশ্বকাপে কি সরাসরি জায়গা করে নিতে পারবে বাংলাদেশ?

২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে র‍্যাংকিংয়ের সেরা আট দলের মধ্যে থাকতে হবে। ১৪ দলের এই আসরে বাকি দলগুলোকে খেলতে হবে বাছাইপর্ব। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়াও র‍্যাংকিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলবে। অর্থাৎ, স্বাগতিকরা যদি সেরা আটের মধ্যে থাকে, তাহলে র‍্যাংকিংয়ের ১০ নম্বর পর্যন্ত দলও সরাসরি সুযোগ পেতে পারে।

তবে, এই সময়ের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে থাকতে না পারলে অপেক্ষা করছে কঠিন বাছাইপর্ব। যেখানে গত বিশ্বকাপে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ও পেরে উঠতে পারেনি।

বর্তমান ওয়ানডে র‍্যাংকিং অনুযায়ী বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৭৯, অবস্থান ৯ নম্বরে। তাদের ঠিক ওপরে থাকা ইংল‌্যান্ডের পয়েন্ট ৮৮। বাংলাদেশের পরে র‌্যাংকিংয়ে দশে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের পয়েন্ট ৭৭।

টানা তৃতীয় সিরিজ জিততে বেশ আত্মবিশ্বাসী মিরাজ। এজন্য নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুটাকে বড় করে দেখছেন তিনি, ‘‘সিরিজের শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ এবং টার্গেটটা সেভাবেই এখনই ঠিক করা উচিৎ হবে না। আমাদের তিনটা ম্যাচ আছে। আমাদের প্রথম ম্যাচটা গুরুত্বপূর্ণ। যদি প্রথম ম্যাচটা ভালোভাবে জিততে পারি তাহলে এগিয়ে যাওয়া যাবে।’’