খেলাধুলা

ক্রিকেটের বাস্তবতা বুঝেই নিউ জিল‌্যান্ড যেখানে অনন‌্য, অসাধারণ

কোচ রব ওয়াল্টার আগের দিনই জানিয়ে গিয়েছিলেন, নিউ জিল‌্যান্ডের প্রথম সারীর ৫৪ ক্রিকেটার বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় খেলছে। ফলে বাংলাদেশে যারা এসেছেন তারা নিউ জিল‌্যান্ডের দ্বিতীয়, তৃতীয় কিংবা পরের সারির। কিন্তু তরুণ, প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার যারাই বাংলাদেশে এসেছেন তাদেরকে নিয়ে বুক ভরা আত্মবিশ্বাস তার। 

অধিনায়ক টম লাথাম নিজেও বৃহস্পতিবার কোচের সুরে সুর মিলিয়েছেন। স্রেফ জানিয়ে রাখলেন, যারা আজ বাংলাদেশে এসেছেন তারাও একদিন বড় হবেন। ফাঁকা জায়গায় যারা সুযোগ পেয়েছেন তারা ভবিষ‌্যতে হয়ে উঠতে পারেন তারকা ক্রিকেটার। 

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ও পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) মতো শীর্ষ দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চলমান। এই মুহূর্তে তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা সেখানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেই ধাক্কা এসে পড়েছে নিউ জিল্যান্ড দলের ওপরও। অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ব্যস্ত আইপিএলে। গ্লেন ফিলিপসও ভারতে। ডেভন কনওয়ে, ফিন অ‌্যালেনও রয়েছেন আইপিএলে। ব্রেসওয়েল আছেন পিএসএলে। লোকি ফার্গুসন, রাচীন রাভিন্দ্র, ডার্ল মিচেল ও ম‌্যাট হেনরি রয়েছেন আইপিএলে। জিমি নিশাম গেছেন পিএসএলে। ফলে দ্বিতীয় বা তৃতীয় সারির দল নিয়েই বাংলাদেশ সফরে এসেছে নিউ জিল্যান্ড। এছাড়া নিউ জিল‌্যান্ডের একটি দল শ্রীলঙ্কা সফরেও গেছেন। সব মিলিয়ে নিউ জিল‌্যান্ডের মূল ক্রিকেটাররা সবাই জাতীয় দলের বাইরের খেলায় ব‌্যস্ত।

তবে তারকা ক্রিকেটারদের না থাকা এবং তরুণ ক্রিকেটারদের সুযোগ পাওয়াকে নিউ জিল‌্যান্ড দেখছে ইতিবাচক মানসিকতায়। কে আছেন, কে নেই তা নিয়ে মাথা ব‌্যথাও নেই তাদের।  

দুটি বড় ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে পাশ কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মনোযোগ রাখা কতটা কঠিন সেই প্রশ্নও উঠল লাথামের কোর্টে। কিউই অধিনায়ক সোজাসাপ্টা উত্তর দিয়েছেন, ‘‘আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে এটা একদমই কঠিন নয়। আমাদের জন্য এটা নিউ জিল্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করার আরেকটি সুযোগ। আমি দলের অনেকের চেয়ে বেশি খেলেছি এবং নিউ জিল্যান্ডের হয়ে খেলতে সবসময়ই রোমাঞ্চিত থাকি। দলের অন্যরাও একইভাবে অনুভব করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পাওয়া সবসময়ই রোমাঞ্চের। বিশ্বজুড়ে অনেক প্রতিযোগিতা চলছে, এটা এখনকার ক্রিকেটের বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাথে লিগের সূচি প্রায়ই মিলে যায়। তাই নতুন খেলোয়াড়দের জন্য সুযোগ তৈরি হয়, এবং সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে।‘’

তরুণ, প্রতিশ্রুতিশীল যারাই এসেছে তাদের থেকে লাথামের চাওয়াটা খুব সহজ। নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই তারা খেলুক এতোটুকুই অধিনায়ক হিসেবে তাদের প্রত‌্যাশ‌্যা, ‘‘আমাদের লক্ষ্য হলো প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব দক্ষতা নিয়ে এসে পারফর্ম করা, যার জন্য তারা দলে জায়গা পেয়েছে। আমাদের একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও খেলার ধরণ আছে, তবে আমরা চাই খেলোয়াড়রা নিউ জিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে যেমন খেলে, তেমনভাবেই খেলুক। আমরা জানি তারা যদি সেটাই করতে পারে, তাহলে নিজেদের সেরা সুযোগ তৈরি করবে। স্কোয়াডের সবাই কোনো না কোনো সময় নিউ জিল্যান্ডের হয়ে খেলেছে, তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্পর্কে তাদের ধারণা আছে, যদিও কারো কারো ম্যাচ সংখ্যা কম। আমরা চাই তারা আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজেদের মতো খেলুক।’’

বাংলাদেশের বিপক্ষে লাথামের ব‌্যাটিং রেকর্ড বেশ ভালো। ষাটের কাছাকাছি তার গড়। ২টি সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে ৫টি ফিফটি। নিজের খেলা অন‌্যতম প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফের খেলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত কিউই অধিনায়ক, ‘‘বাংলাদেশে আমি খুব বেশি ওয়ানডে খেলিনি। তবে এই কন্ডিশনে বাংলাদেশ অবশ্যই একটি শক্তিশালী দল। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ হোক বা অন্য কোনো দল, আমার প্রস্তুতি বদলায় না। এখানের কন্ডিশন ভিন্ন। কয়েক বছর এখানে খেলিনি, তাই বাংলাদেশে খেলার সুযোগ নিয়ে আমরা সত্যিই উচ্ছ্বসিত। তারা গত মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে দারুণ একটি সিরিজ জিতে এসেছে, তাই তারা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ হবে এবং সবাই সেটার জন্য মুখিয়ে আছে।’’

সিরিজে জয় ভিন্ন অন‌্য কিছু চিন্তা করছেন না লাথাম, ‘‘আমরা এখানে এসেছি সিরিজ জিততে। সবার দৃষ্টিকোণ থেকেই সেটাই প্রধান লক্ষ্য। তবে আমরা জানি, সেখানে পৌঁছাতে অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের জন্য বিষয়টা হলো ম্যাচ থেকে ম্যাচে শেখা ও উন্নতি করা। আমাদের দলে কিছু খেলোয়াড় আছে যারা এই কন্ডিশনে কম অভিজ্ঞ, কিন্তু তারা যত বেশি বাংলাদেশে খেলবে, ততই সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে। যদি আমরা ম্যাচ থেকে ম্যাচে উন্নতি করতে পারি, তাহলে সিরিজের শেষদিকে নিজেদের ভালো অবস্থানে রাখতে পারব। যখন দলে কম অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকে, তখন আমার মতো যারা কিছুটা বেশি খেলেছে, তাদের দায়িত্ব হলো যতটা সম্ভব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া। আমরা যতই পরিকল্পনা, অনুশীলন ও প্রস্তুতি নেই না কেন, ম্যাচে নেমে সামনে যা আসবে সেটার সাথে খাপ খাইয়ে সেরাটা দেওয়াই আসল বিষয়।’’