শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় উৎসাহিত করতে বহুশাস্ত্রীয় গবেষণা জার্নাল প্রকাশ করেছে দেশের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘এডওয়ার্ড রিভিউ (Edward Review)’ নামের এই জার্নালটির প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট পদার্থবিজ্ঞানী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের এমিরেটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক। বক্তব্যে তিনি এই কলেজে তার শিক্ষাজীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন।
তিনি বলেন, “দেশে এখনো শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায়ও পিছিয়ে রয়েছে। ফলে তারা যথাযথভাবে মানবসম্পদে রূপান্তরিত হতে পারছে না।”
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শুধু একাডেমিক পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। এর বাইরে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় মনোযোগ দিতে হবে।” গবেষণা মানে জ্ঞানের গভীরে প্রবেশ করা—উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টনের অধ্যাপক অনিমা বোস, অধ্যাপক প্রদীপ কুমার দত্ত, কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শিবজিত নাগ।
এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, “জার্নালটি প্রকাশের জন্য একটি সম্পাদনা পরিষদ গঠন করা হয়েছিল এবং তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধার ফলেই প্রথমবারের মতো এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এ ধরনের একটি জার্নাল প্রকাশ সম্ভব হয়েছে। এতে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণালব্ধ প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বাড়াতে সহায়তা করবে এবং গবেষণায় আগ্রহী করে তুলবে।”
জার্নালটির অন্যতম সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজগুলোতে সাধারণত গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ বা পরিবেশ থাকে না। ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষকরাও এতদিন সেই সুযোগ পাননি। তবে এই জার্নাল প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।”
তিনি আরো জানান, রাজশাহী কলেজসহ দেশের কয়েকটি কলেজ ইতোমধ্যে জাতীয়মানের জার্নাল প্রকাশ করছে। এডওয়ার্ড রিভিউতেও শুধুমাত্র মৌলিক গবেষণাধর্মী লেখা প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি দেশের বাইরের গবেষকদের কাজও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।