সারা বাংলা

দিনাজপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টানা তিন দিনের কর্মবিরতি পর কাজে ফিরেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকাল থেকে তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন।

এ দিন দুপুরে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান।

রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টায় হাসপাতালের কার্ডিয়াক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর হামলা, হৈ চৈ এবং কর্তব্যরত চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে রাত ৩টায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বিভাগের প্রবেশপথে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর প্রায় ২০০ ইন্টার্ন চিকিৎসক কর্মবিরতি শুরু করেন।  

ডা. ফজলুর রহমান জানান, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ রেফারেল হাসপাতাল। প্রতিদিন এখানে প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০ রোগী ভর্তি থাকেন এবং বহির্বিভাগে আরো প্রায় এক হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। ৫০০ শয্যার বিপরীতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

পরিচালক আরো বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ১৮টি বিভাগ চালু রয়েছে। প্রতিটি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও পর্যাপ্ত মেডিকেল অফিসার না থাকায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। ফলে হাসপাতালের সার্বিক সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অনেক সময় স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরোধ তৈরি হচ্ছে, এমনকি শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি দিনাজপুরবাসীসহ সকলের কাছে সহযোগিতা, শৃঙ্খলা ও সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, প্রতিদিন বিকাল ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত ভিজিটিং আওয়ার, সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত শুধু গেট পাসধারীদের প্রবেশের অনুমতি, প্রতি রোগীর বিপরীতে সর্বোচ্চ দুইজন দর্শনার্থীর জন্য দুটি গেট পাস, প্রতিটি গেট পাসের বিপরীতে নির্ধারিত জামানত রাখা, যা রোগী ছাড়পত্রের সময় ফেরত দেওয়া হবে; মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে রাতে কোনো পুরুষের অবস্থান নিষিদ্ধ, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন, হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ পুলিশ ও আনসার সদস্যদের আরো সক্রিয় করা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে নিয়মিত সান্ধ্যকালীন রাউন্ড চালু।

সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এ সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ আরো শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরাপদ হবে।