বিশ্ববিদ্যালয়, বিচার বিভাগসহ বিভিন্ন জায়গায় দলীয়করণের অভিযোগ তুলে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলছেন, “আমরা আবার কেন সেই পুরানা সংস্কৃতিতে ফিরে যাব? এগুলো যখন বিদ্যমান থাকবে, আমরা আশঙ্কা করছি, অতীতের ফ্যাসিজমের চাইতে আগামীর ফ্যাসিজম হবে আরো ভয়াবহ।”
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে নতুন ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠানে অগণতান্ত্রিক দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এজন্য আমরা বলতে বাধ্য হয়েছি, যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন ফ্যাসিজমের যাত্রা শুরু হয়েছে।”
তিনি বলেন, “গণতন্ত্রের মূল্যবোধ হচ্ছে, মানুষের অধিকাংশের রায়কে সম্মান করা; আর এখানে অধিকাংশের রায়কে করা হল অপমান।”
জামায়াত আমির বলেন, “সংবিধান ইচ্ছামত সংশোধনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চায় বিএনপি সরকার। সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে। তাই জনস্বার্থ রক্ষায় রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্যকে।”
তিনি সরকারকে ভুল থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "প্রথমে গণভোটের গণরায় মেনে নিন। তার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিন, আমরা এটা বাস্তবায়নে আপনাদের সহযোগিতা করব। এরপর শাসনব্যবস্থা থেকে ফ্যাসিবাদ দূর করার জন্য যেসব অধ্যাদেশ হয়েছিল, সেগুলো একচুলও পেছনে না গিয়ে বরং সম্ভব হলে সামনে এগিয়ে তা বিল আকারে আনুন। জনগণের ওপর ফ্যাসিজম কায়েমের জন্য সামান্য পরিমাণ ময়লা-আবর্জনা থাকলেও তা আমরা মানব না।”
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সার সংকট এগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করতে চাইলেও তারা শুধু লুকোচুরি করে। অথচ, এগুলো এই সরকারের সৃষ্টি না, এগুলো বৈশ্বিক সমস্যার কারণে তৈরি হয়েছে। আমরা তো এগুলো বুঝি, আমরা চাই, সবাই মিলে খোলা মনে কথা বলার মাধ্যমে এগুলোর সমাধান বের হয়ে আসুক।"
তিনি বলেন, “রাজনীতিতে ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’ এই স্লোগান দেওয়া হলেও কার্যত দেখতে পাই, দেশের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়। এই চরিত্র পাল্টাতে হবে। রাজনীতিতে এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে আর চলতে দেওয়া হবে না, ইনশাআল্লাহ। যেখানেই এই সংস্কৃতির চর্চা চলবে, সেখানেই আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ করব।”