গরমে মুখে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া অনেকের জন্যই বিরক্তিকর। বিশেষ করে যারা মেকআপ করেন তারা এই ঝামেলায় পড়তে চান না। ঘামের সমস্যা সামলাতে অনেকেই সেটিং পাউডারের ওপর ভরসা করেন। পাউডার ত্বকের তেল ও ঘাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, ফলে মেকআপ দীর্ঘক্ষণ টিকে থাকে এবং মুখে একটি ম্যাট ও স্মুথ ফিনিশ আসে। তবে শুধু পাউডার ব্যবহার করলেই সমাধান মিলবে—এমনটা নয়। সঠিক নিয়ম না মানলে উল্টো মেকআপ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, লুক হয়ে যেতে পারে কেকি, শুষ্ক বা অস্বাভাবিক।
মুখের ঘাম এড়াতে পাউডার কতটা কার্যকর পাউডার মূলত ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে এবং মেকআপকে সেট করতে সাহায্য করে। ফলে ঘামের কারণে মেকআপ গলে যাওয়া বা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমে। বিশেষ করে টি-জোনে (কপাল, নাক, থুতনি) এটি বেশ কার্যকর। সেক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, পাউডার ঘাম পুরোপুরি বন্ধ করে না—এটি কেবল ঘামের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। পাউডার ব্যবহারে যেসব ভুল এড়িয়ে চলা জরুরি—
১. অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার অনেকে ভাবেন বেশি পাউডার মানেই বেশি সময় মেকআপ টিকবে। কিন্তু এতে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় ফলে ফাইন লাইন ও বলিরেখাও বেশি চোখে পড়ে। তাই অল্প করে, ধীরে ধীরে পাউডার ব্যবহার করাই সঠিক।
২. ত্বকের ধরন না বুঝে পাউডার বেছে নেওয়া সব পাউডার সব ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়। তৈলাক্ত ত্বকে ম্যাট পাউডার ভালো কাজ করলেও শুষ্ক ত্বকে এটি আরও নিস্তেজ ভাব এনে দিতে পারে। তাই ত্বকের ধরন বুঝে পাউডার নির্বাচন করা জরুরি।
৩. ক্রিজ হওয়ার জায়গা ঠিকভাবে সেট না করা চোখের নিচে, নাকের পাশে বা স্মাইল লাইনে মেকআপ জমে যাওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। এই জায়গাগুলোতে হালকা করে পাউডার সেট না করলে মেকআপ প্যাচি দেখায়।
৪. বাড়তি পাউডার না ঝেড়ে ফেলা পাউডার লাগানোর পর বাড়তি অংশ ঝেড়ে না ফেললে মুখে একটি ভারী, পাউডারি ভাব দেখা যায়। তাই একটি নরম ব্রাশ দিয়ে হালকা করে অতিরিক্ত পাউডার সরিয়ে নেওয়া উচিত।
৫. পুরো মুখে পাউডার লাগানো পুরো মুখে পাউডার লাগালে লুক ফ্ল্যাট হয়ে যেতে পারে। বরং যেখানে বেশি তেল বা ঘাম হয়—সেই অংশগুলোতেই পাউডার ব্যবহার করা ভালো।
সঠিকভাবে সেটিং পাউডার ব্যবহার করলে ঘামজনিত সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী হয়।