সারা বাংলা

ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রিয়াছুল আমিন (জামাল সিকদার) বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী মিসাত জাহান।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের কাজী খলিলুর রহমান মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে মিসাত জাহান জানান, প্রেমের সম্পর্কের কারণে তিনি জামাল সিকদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় তার স্বামী যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এর প্রেক্ষিতে বাবার বাড়ি ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং চার ভরি স্বর্ণ এনে স্বামীর হাতে দিতে বাধ্য হন। 

মিসাত জাহান দাবি করেন, তাদের বিয়ের কাগজপত্রসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র বর্তমানে তার স্বামীর কাছেই রয়েছে। ২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর তাদের একটি ছেলে সন্তান হয়। পরবর্তীতে স্বামীর বাড়িতে বসবাস শুরু করলেও পারিবারিক নানা বিষয়, বিশেষ করে স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ঘিরে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

তার অভিযোগ, এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। একাধিকবার গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছে। সাম্প্রতি নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মিসাত জাহান। বর্তমানে নিজের ও সন্তানের প্রাণনাশের আশঙ্কায় আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মিসাত জাহান তার ও সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সন্তানের পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি এবং স্বামীর বাড়িতে নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামাল সিকদার জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি কোনো ধরনের নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত নন বলেও দাবি করেন।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এজাজ হাসান বলেন, “রিয়াছুল আমিন জামাল সিকদার গাবারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে আছেন। তিনি দলের জন্য অন্যান্ত নিবেদিত একজন কর্মী। আমার মনে হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এরপরেও যদি ঘটনা সত্য হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, “আমরা এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”