সারা বাংলা

সূর্যমুখীর হাসিতে বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য

বাগেরহাটের মাঠজুড়ে এখন সূর্যমুখীর হলুদ হাসি। এক সময় পড়ে থাকা জমিতে এই ফসলের চাষ করে কৃষকের ভাগ্যে আসছে ইতিবাচক পরিবর্তন। স্বল্প খরচে বেশি লাভের আশায় চলতি মৌসুমে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকেছেন অনেক কৃষক। 

কৃষি বিভাগের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সারসহ বিভিন্ন উপকরণ দেওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে কয়েকগুণ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন চোখে পড়ে সবুজ গাছের মাঝে হলুদ ফুলের অপরূপ দৃশ্য। যেন প্রতিটি ফুল ছড়িয়ে দিচ্ছে কৃষকের মুখে হাসি। এই সৌন্দর্য দেখতে আশপাশের এলাকা থেকেও ভিড় করছেন অনেক দর্শনার্থী।

কৃষকরা জানান, ডিসেম্বর মাসে সূর্যমুখীর বীজ রোপণ করা হয় এবং মাত্র চার মাসের মাথায়, এপ্রিলের শেষ দিকে তা কাটা হয়। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করা যাচ্ছে। বাজারে সূর্যমুখীর তেলের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা। 

কচুয়া উপজেলার স্থানীয় কৃষক সাধন কুমার হালদার বলেন, “বিঘাপ্রতি ৭-৮ হাজার টাকা খরচ হয়, আর লাভ হয় ২৫-৩০ হাজার টাকা। সূর্যমুখীর তেল খুবই সুস্বাদু এবং অন্যান্য তেলের তুলনায় ভালো। তেল ভাঙানোর পর যে খৈল হয় তা গরুকে খাওয়ানো যায়, আবার গাছ দিয়েও জ্বালানি তৈরি হয়, কিছুই অপচয় হয় না।” 

কৃষাণী গীতা রানি বলেন, “আগে এই জমিতে অন্য ফসল দিতাম, কিন্তু ভালো ফলন হতো না। একপ্রকার ফাঁকা পড়ে থাকত জমি। এবার প্রথম সূর্যমুখী চাষ করে ভালো লাভ পেয়েছি।”

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকাশ বৈরাগী বলেন, “কচুয়া উপজেলায় এবার ৬৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে, যা গতবারের তুলনায় প্রায় ৩০ হেক্টর বেশি। কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে এবং উপসহকারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে।” 

তিনি আরো জানান, সূর্যমুখীর তেল স্বাস্থ্যসম্মত এবং এতে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নেই, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। প্রতি হেক্টরে ২ থেকে আড়াই মেট্রিক টন ফলনের আশা করা হচ্ছে। 

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, “জেলায় সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৩১ হেক্টর, কিন্তু আমরা ৬১০ হেক্টর জমিতে আবাদ করতে সক্ষম হয়েছি। উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় ফসল, যা ১২-১৪ ডিএস বা মিটার পর্যন্ত লবণ সহ্য করতে পারে।” 

তিনি আরো বলেন, “পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষ বাড়ানো গেলে ভোজ্য তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। তবে তেল ভাঙানোর মেশিন কৃষকের পর্যায়ে পৌঁছে দিতে পারলে উৎপাদন ও বাজারজাত আরো সহজ হবে।”